শীতে হাওরাঞ্চলে ভাসমান মানুষের শোচনীয় অবস্থা

Printed Edition

আলি জামশেদ নিকলী (কিশোরগঞ্জ)

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জের নিকলীসহ আশপাশের এলাকায় নিম্ন তাপমাত্রায় ভাসমান মানুষের অবস্থা শোচনীয়। বিশেষ করে ভবঘুরে মানসিক রোগীরা শীত, ক্ষুধা ও অবহেলায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীতের দাপটে নোংরা পোশাক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেক মানসিক রোগী হাঁটু গেড়ে জবুথবু হয়ে রাত কাটাচ্ছে। বাত ব্যথা, ঠাণ্ডাজনিত অসুখ ও শ্বাসকষ্টে তাদের ভোগান্তি বেশি। নিকলী, বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন এলাকায় খোলামেলা হাওর পরিবেশের কারণে বাতাস ও কুয়াশার প্রভাব শহরের তুলনায় বেশি অনুভূত হয়, যা শীতের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। শীতকালে হাওরাঞ্চলে ভবঘুরে মানসিক রোগীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তারা সাধারণত হাটবাজার, জনবহুল রাস্তার পাশ, রেলস্টেশন, দোকানের সামনে কিংবা পরিত্যক্ত ঘরে আশ্রয় নেয়। অনেক ক্ষেত্রে স্বজনদের তদারকির অভাবে তারা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তীব্র শীতে তাদের রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসার অভাবে ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হয়। নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার কাপড়ের অভাবেও নানা সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।

নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের আঠারবাড়িয়া টাওয়ার মোড়ে পরিচয়হীন মানসিক রোগী ছাব্বির এবং বাজিতপুরের জ্ঞানপুর মোড়ে রাতুল নামের আরেক মানসিক রোগীকে শীতবস্ত্রের অভাবে কনকনে ঠাণ্ডায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এমন দৃশ্য নিকলিজুড়ে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্র্রতিক সময়ে শৈত্যপ্রবাহে শুধু মানসিক ভারসাম্যহীন, খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক, জেলে, শিশু ও বয়স্করাও চরম দুর্ভোগে পড়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক রোগীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সেবা কেন্দ্র স্থাপন, ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।