ঢাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অংশ নিতে ঢাকায় পা রেখেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। গতকাল ভোরে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের একটি অংশ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। নতুনদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। টি-২০ বিশ্বকাপে ৩৮৩ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়েছেন তিনি। তবে চোটের কারণে এই সিরিজে দলে রাখা হয়নি অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে।

এর আগে গত শনিবার প্রধান কোচ মাইক হেসনের সাথে ঢাকায় আসেন সাপোর্টিং স্টাফ ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডারমট, বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকে, স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ গ্র্যান্ট লুডেন এবং ফিজিওথেরাপিস্ট ক্লিফ ডিকন।

দীর্ঘ ১১ বছরের বিরতি কাটিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে আবারো ওয়ানডে খেলতে নামছে পাকিস্তান। সর্বশেষ ২০১৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সফরে তারা শেষবার এ দেশে ওয়ানডে খেলেছিল। এরপর ২০২১ এবং গত বছর বাংলাদেশ সফর করলেও সেগুলোতে কেবল টেস্ট ও টি-২০ ম্যাচই ছিল।

আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি) অনুযায়ী এবারের বাংলাদেশ সফরে তিন সংস্করণের ক্রিকেটই খেলার কথা ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু পিএসএলের (পাকিস্তান সুপার লিগ) কারণে সেই সূচিতে বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, এই দফায় কেবল তিনটি ওয়ানডে খেলবে উভয় দল। বাতিল করা হয়েছে টি-২০ সিরিজটি। আর পিএসএলের ব্যস্ততা শেষে আগামী মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আবারো বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান দল।

১১ মার্চ থেকে ওয়ানডে সিরিজ শুরু। ১৩ ও ১৫ মার্চ হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ। সবগুলো ম্যাচের ভেনু মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম। প্রতিটি ম্যাচই শুরু হবে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে। সিরিজ শেষে ১৬ মার্চ পাকিস্তান দল পাকিস্তানের উদ্দেশ রওনা দেবে।

বাংলাদেশের জন্য পুরনো সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনার বড় সুযোগ এই সিরিজ। ১১ বছর আগের সেই সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছিল টাইগাররা। যদিও এর আগের চারটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশকে ধবলধোলাইয়ের তেতো স্বাদ দিয়েছিল তারা। এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৩৯ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল, যেখানে পাকিস্তানের ৩৪ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র পাঁচটিতে।

কেমন হবে মিরপুরের উইকেট

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম অনেক দিন ধরেই পরিচিত ধীরগতির ও স্পিনসহায়ক উইকেটের জন্য। কিন্তু এবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে বদলে যেতে পারে সেই চিত্র। তবে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরে যে ধরনের উইকেট দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান সিরিজেও তেমন উইকেট থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, ‘আগের মতো সেøা ও লো উইকেট এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না মিরপুরে। সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের উইকেটে ম্যাচ হয়েছে, সে রকম উইকেটেই এবার খেলা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ম্যাচগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং রান করাও খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়। তবে স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশের কিছুটা সুবিধা থাকবে। কারণ এই উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা দলের রয়েছে। যদিও আগের মতো স্পিননির্ভর বড় সুবিধা হয়তো পাওয়া যাবে না।’

দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। অক্টোবরের পর আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ খেলেনি টাইগাররা। একইসাথে টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকেও দূরে ছিল দলটি। সেই বিরতি কাটিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামী ১১ মার্চ থেকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ।

পাকিস্তান দলেও বেশ কিছু নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে। ছয়জন অনভিষিক্ত ক্রিকেটারকে নিয়ে দল সাজিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবু তাদের খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ফাহিম। তার মতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলই দুর্বল দল পাঠায় না এবং পাকিস্তানও নিশ্চয়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম দলই পাঠিয়েছে।

সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও সিরিজটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, ক্রিকেটাররা অনুশীলনের মধ্যে থাকলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরতে গেলে চাপ থাকেই। তবে মিরপুরে খেলা হওয়ায় বাংলাদেশের কিছুটা বাড়তি সুবিধা থাকবে। ‘পাকিস্তান নতুন খেলোয়াড় নিয়ে এলেও তারা নিজেদের প্রমাণ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তাই বাংলাদেশকে সেরাটা খেলতে হবে। কারণ এই সিরিজের পয়েন্টগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। র‌্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থানে না থাকলে ভবিষ্যতে বাছাইপর্ব খেলতে হতে পারে।’