ব্যবহার অনুপযোগী প্লাস্টিক এখন আর ফেলনা নয়

বিদেশে রফতানিতে আসছে রেমিট্যান্স

Printed Edition
মানিকছড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল প্রক্রিয়াজাত করছেন শ্রমিকরা : নয়া দিগন্ত
মানিকছড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল প্রক্রিয়াজাত করছেন শ্রমিকরা : নয়া দিগন্ত

আবদুল মান্নান মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি)

এক সময় ব্যবহারের পর প্লাস্টিক পণ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা হতো। বোতলজাত পানি, তেল, কোল্ড ড্রিংকসের খালি বোতল কিংবা বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ঝুঁড়ি, বালতি, জগ, মগসহ নানা পণ্য ব্যবহারের পর পরিণত হতো ফেলনায়।

কিন্তু সময়ের সাথে বদলেছে পরিস্থিতি। এখন আর এসব প্লাস্টিক ফেলনা নয়, বরং প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশে রফতানি হচ্ছে, আর তা থেকে আসছে রেমিট্যান্স। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় গড়ে উঠেছে একটি প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ‘বিসমিল্লাহ প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি’। মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার প্লাস্টিক উপকরণ প্রক্রিয়াজাত হয় এখানে।

কারখানার মালিক সাবেক ইউপি (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম। তিনি নিজস্ব জমিতে পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখে এই উদ্যোগ নেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কারখানায় ২০-২২ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন।

ফ্যাক্টরির মালিক আবুল কাশেম জানান, প্রথমে ফেরিওয়ালাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে শহরে পাঠাতাম। পরে বুঝি এখানেই প্রক্রিয়াজাত করলে পরিবহন খরচ কমে যাবে, লাভও বাড়বে। তিনি জানান, একজন ফেরিওয়ালা সাদা প্লাস্টিক বোতল ২০ টাকা ও রঙিন বোতল ১৫ টাকা কেজিতে কিনে নিয়ে আসেন। তিনি সেগুলো ৪০-৫০ টাকায় কিনে প্রক্রিয়াজাত শেষে শহরে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি করেন। তবে গত দুই মাস ধরে এলসি বন্ধ থাকায় রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, প্লাস্টিক পচেও না, গলেও না। পুড়িয়ে ফেললে পরিবেশ দূষিত হয়। তবে ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করে প্রক্রিয়াজাত করলে পরিবেশ যেমন রক্ষা পায়, তেমনি অর্থনৈতিক লাভও হয়।