গাইবান্ধায় তীব্র নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি

Printed Edition
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন : নয়া দিগন্ত
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন : নয়া দিগন্ত

সৈয়দ রোকনুজ্জামান গাইবান্ধা

গাইবান্ধার তিস্তা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র নদীভাঙনে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে নদ-নদীর পানি ওঠানামার সাথে ভাঙন বাড়তে থাকায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েকটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এতে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, বেলকা, চণ্ডীপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তিস্তার ভাঙনে বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। চরাঞ্চলের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনাও ঝুঁকিতে রয়েছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী, কামারজানি ও মোল্লারচর ইউনিয়নেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর এবং উড়িয়া ইউনিয়নের কাঁটাতার এলাকায় ভাঙনের কারণে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বালাসী ফেরিঘাটও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সাঘাটার চরাঞ্চলেও একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভরতখালী থেকে হলদিয়া পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় আসন্ন বন্যায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জের কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা জেলেখা বেওয়া বলেন, প্রতি বছর ভাঙনে সব হারিয়েছেন। তিন বছর আগে বসতভিটা নদীতে বিলীন হওয়ার পর অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। এবার সেই ঘরটিও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। একই এলাকার আলেয়া বেগম জানান, কয়েক দিন আগে তার বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিনমজুরের কাজ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই এলাকায় ইতোমধ্যে অন্তত ১৫টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে এবং প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় স্কুল, মসজিদসহ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হুমকির মুখে রয়েছে।

মোল্লারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুজ্জামান বদি বলেন, প্রতি বছর একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়ে ইউনিয়নটির অস্তিত্বই সঙ্কুুচিত হয়ে পড়ছে। কঞ্চিপাড়ার আব্দুল হান্নান অভিযোগ করেন, এখনো কোনো সরকারি প্রতিনিধি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেননি। তিনি ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা ও ভাঙনে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি-হ্রাসের কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। অসমাপ্ত বাঁধ নির্মাণ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরোধ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।