ঈদে নিরাপত্তায় নানা পদক্ষেপ ডিএমপির

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

  • শপিংমল, ব্যাংকের সামনে গোয়েন্দা নজরদারি

  • কমেছে ছিনতাইকারী অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য

ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা গাবতলী থেকে সায়দাবাদ, উত্তরা থেকে গুলিস্তান সর্বত্র তদারকি করছেন। সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে রিকশাচালক ও ব্যবসায়ীদের সাথে মিটিং করছেন, আবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে চালাচ্ছেন অভিযান।

পুলিশের দাবি, অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে এবারের ঈদ কেনাকাটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানামুখী অভিযানের কারণে এবারের রমজান ও ঈদকেন্দ্রিক কমেছে ছিনতাইকারী, টানাপার্টি, অজ্ঞানপার্টির দৌরাত্ম্য কমেছে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলেই সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরো জোরদারভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র মতে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০ থানায় বিশেষ অভিযানে গত পাঁচ দিনে তিনশতাধিক দুষ্কৃতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপার্টি, টানাপার্টির সদস্য রয়েছে। জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ডিএমপি সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। একই সাথে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়েও নিরাপত্তা সচেতনতাবোধ তৈরি হচ্ছে। ঈদ উদযাপনকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘœ করতে প্রতিটি সরকারি সংস্থাকে আগের চেয়ে আরো বেশি মনোযোগ ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে কাজ করা হচ্ছে। যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, ডিবি, সোয়াট, ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় পুলিশের জোরালো তৎপরতার ফলে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পুলিশের সক্রিয় অভিযানের কারণে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ অনেকাংশে কমে এসেছে।

ডিএমপি কমিশনারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ঈদে বেশির ভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে যাবে। এ সময়ে কোনো অপরাধ, ছিনতাই, অজ্ঞান/মলমপার্টি বা অন্যান্য অপতৎপরতা সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ঈদ যাত্রাকালীন গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, কমলাপুর এবং সদরঘাট এই প্রধান বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের ছুটিকালীন ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঢাকা শহরে বিট অনুযায়ী পেট্রোল ডিউটি বৃদ্ধি করা হবে। যাতে শহরের প্রতিটি এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও টহল বৃদ্ধি পায়। তালেবুর রহমান বলেন, ঈদে শপিংমল, মার্কেটের, ব্যাংক এটিএম বুথ ঘিরে থাকছে বাড়তি নজরদারি। এসব এলাকার সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করে তদারকির কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একসাথে কাজ করতে পারলে ঈদযাত্রার নানা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। সবমিলিয়ে এবারের ঈদ স্বস্তিতে কাটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।