আবুধাবিতে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় রাশিয়া-ইউক্রেন

আলজাজিরা
Printed Edition
আবুধাবির আল শাতি প্রাসাদে দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা : ইন্টারনেট
আবুধাবির আল শাতি প্রাসাদে দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা : ইন্টারনেট

রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনায় বসেছেন। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান নিয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল আবুধাবিতে পৌঁছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল আসে পরে।

দুই দিনের এ বৈঠক শুরু হচ্ছে এমন সময়ে, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ট্রাম্প-সমঝোতা লঙ্ঘন করে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। আলোচনার আগে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র শীতে এ হামলা আলোচনার অগ্রগতিকে ছাপিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, প্রতিটি হামলাই প্রমাণ করে মস্কোর মনোভাব বদলায়নি। তারা যুদ্ধ ও ধ্বংসের ওপরই বাজি ধরছে, কূটনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি জানান, আলোচনায় অংশ নেয়া ইউক্রেনীয় দলের কাজ সে অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।

কিয়েভে অনেকেই আশা করছেন, আবুধাবির বৈঠকের পর অন্তত জ্বালানি স্থাপনায় হামলা কিছুদিন বন্ধ থাকবে। তবে প্রথম দফার আলোচনায় খুব কম অগ্রগতি হওয়ায় অনেকেই আশাবাদী নন। গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম দফার বৈঠক হয়। সেটিই ছিল মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম প্রকাশ্য আলোচনা। তবে চার বছর পূর্ণ হতে চলা যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটাতে এখনো অগ্রগতি হয়নি।

সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো পূর্ব ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ। ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনকে দোনবাস অঞ্চল থেকে সেনা সরাতে হবে এবং দখলকৃত ভূমির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ইউক্রেন বলছে, বর্তমান সীমান্ত রেখায় সঙ্ঘাত স্থগিত রাখতে হবে, একতরফা সেনা প্রত্যাহার নয়। ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিল প্রধান রুস্তেম উমেরভ। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছেন সামরিক গোয়েন্দা পরিচালক ইগর কস্তিউকভ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠক করেছেন। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আলোচনা ছিল ফলপ্রসূ। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। তারা হুমকি দিয়েছে, আলোচনায় ব্যর্থ হলে দোনেৎস্কের বাকি অংশও দখল করবে।

ইউক্রেন সতর্ক করেছে, জমি ছাড় দিলে রাশিয়া আরো আগ্রাসী হবে। তারা এমন কোনো চুক্তি করবে না, যা ভবিষ্যতে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হবে। বর্তমানে ইউক্রেন দোনেৎস্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। রাশিয়া লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল নিজেদের দাবি করছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ইউক্রেনীয় জনগণ জমি দিয়ে শান্তি চুক্তি করতে রাজি নয়। এ দিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ব্যাপক মানবিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও অগ্রগতি অর্জন করছে। জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং ক্রেমলিনের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে বলেছেন।