বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাওলানা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ১৯৪০ সালে সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ‘ইসলামাইজেশন অব ল’ বা আইনের ইসলামীকরণের স্বপ্নদ্রষ্টা। তার দর্শন ছিল দেশের বিদ্যমান আইনগুলোকে ইসলামের নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করা। এই লক্ষ্যে আইনবিদদের মধ্যে ঐক্য প্রচেষ্টায় তার ভূমিকা ছিল অনন্য। ইসলামী মনোভাবাপন্ন আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামিক লইয়ার্স কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ ইসলামিক ল রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার। তিনি ইসলামিক লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ইসলামিক লরিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের আমৃত্যু প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।
মাওলানা নজরুল ইসলাম মাদরাসার পাশাপাশি ইংরেজি কারিকুলামেও শিক্ষা লাভ করেন। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি নেন। ষাটের দশকে এডওয়ার্ড কলেজে নির্বাচিত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও আইন শাস্ত্রে (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালে পাবনায় আইন পেশা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর তিনি নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন। ১৯৮৮ সালে হাইকোর্টে আইন চর্চা শুরু করেন। মাওলানা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ফতোয়া নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ আইনি লড়াই করেন। ফলে আদালত এ সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ রায় দেন। ‘হেফজুর রহমান কেস’-এ তালাকপ্রাপ্তা নারীর খোরপোশের অধিকার আদায়ে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা আইনি ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে। ইউনিফাইড ম্যারেজ অ্যাক্টের বিরুদ্ধে তিনি জোরালো আইনি অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নির্যাতিত নেতাদের পক্ষে অন্যতম আইনজীবী হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।
দেশে ইসলামী ব্যাংকিং প্রবর্তনেরও তিনি ছিলেন অন্যতম কারিগর। ইসলামী ব্যাংকের সূচনালগ্নে আইনি কাঠামো তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আমৃত্যু এই ব্যাংকের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ছিলেন এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন, ইসলামী ব্যাংকিং ও শরিয়াহ আইনসংক্রান্ত বিধিবিধান প্রণয়নে অনন্য অবদান রাখেন।
আইনি পেশার পাশাপাশি তিনি ইবনে সিনা ট্রাস্ট, তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্ট, ইসলামিক সোসাইটি অব নারায়ণগঞ্জের অধীনে নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুল ও আদর্শ বালিকা মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় অন্যতম উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি পাবনার দারুল ইহসান ট্রাস্ট ও দারুল ইসলাম ট্রাস্টের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা ছিলেন। মাওলানা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্য ছিলেন। ২০২১ সালের ১৫ জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন।
আ. জ. ম রুহুল আমিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি, ইসলামিক সোসাইটি অব নারায়ণগঞ্জ



