সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে চরম ধৃষ্টতার তীব্র নিন্দা হেফাজতে ইসলামের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক বোরকা ও হিজাব নিয়ে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ, অবমাননাকর ও ইসলামবিদ্বেষী কটূক্তির তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।

গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত দাবিদার একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে ইসলামের একটি ফরজ বিধান ও নারীদের শালীন পোশাক নিয়ে এ ধরনের চরম বিদ্রƒপাত্মক, কুরুচিপূর্ণ ও অশোভন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটি শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কোন পর্যায়ে পৌঁছলে একজন সংসদ সদস্য হয়ে নারীদের ধর্মীয় পোশাককে উপহাসের বিষয়ে পরিণত করতে পারেন, তা ভাবতেও ঘৃণা হয়। এ ধরনের আচরণ সভ্য ও শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মুখে চুনকালি দেয়ার শামিল।”

নেতৃদ্বয় অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বোরকা ও হিজাব পরা মুসলিম নারীদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় মৌলিক অধিকার। ইসলামের এই অকাট্য বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ ও তামাশা করা কোটি কোটি তৌহিদি জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে এবং আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে ইসলামের চেতনা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত মোটেও বরদাশত করা হবে না।

তারা আরো বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী পবিত্র প্রতিষ্ঠান। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন ইসলামবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে জনগণের কাছে কী বার্তা দেয়া হচ্ছে? রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি, আদর্শ ও জনস্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রেখে ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করে বিষোদগার করা বিকৃত মানসিকতারই প্রমাণ। সংসদকে কোনো নির্দিষ্ট মহলের ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নের আখড়া বানাতে দেয়া যাবে না।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় অনতিবিলম্বে ওই চরম আপত্তিকর ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায়, দেশের তৌহিদি জনতা ঈমান ও আমলের সুরক্ষায় রাজপথে কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। একই সাথে জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।