মাঠ প্রশাসনে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রচারণায় কর্মীদের ওপর হামলা-হয়রানির সাথে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আসছে নানা অভিযোগ। আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে জামায়াত কর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজিমউদ্দীন এর বিরুদ্ধে। পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগ এসেছে নরসিংদীর মনোহরদি উপজেলার ইউএনওর বিরুদ্ধে। স্থানীয় রিটার্নিং অফিসারের কাছে এসব অভিযোগের প্রতিকার না পেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা। তবে এসব অভিযোগের কোনো প্রতিকার করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।

শামছুল ইসলাম
Printed Edition

  • আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে জামায়াত কর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে
  • পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগ মনোহরদীর ইউএনওর বিরুদ্ধে

আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রচারণায় কর্মীদের ওপর হামলা-হয়রানির সাথে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আসছে নানা অভিযোগ। আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে জামায়াত কর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজিমউদ্দীন এর বিরুদ্ধে। পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগ এসেছে নরসিংদীর মনোহরদি উপজেলার ইউএনওর বিরুদ্ধে। স্থানীয় রিটার্নিং অফিসারের কাছে এসব অভিযোগের প্রতিকার না পেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা। তবে এসব অভিযোগের কোনো প্রতিকার করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শরীয়তপুর-২ আসনের প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর পাঠানো অভিযোগে বলেন, নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-২ সংসদীয় আসনের সখিপুর থানার জামায়াতের কর্মী-সমর্থকের অনেককে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন আওয়ামী কর্মী আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে। গত ২০ ডিসেম্বর জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ৭৮ বছর বয়সী ফয়জুর রহমান মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। ২২ ডিসেম্বর আখতার হোসেন ও ৩১ ডিসেম্বর খোকা বেপারিকে গ্রেফতার করা হয়। এদের সবাইকেই পেন্ডিং মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে গ্রেফতার করে বিস্ফোরক আইনে চালান দেয়।

অপরপক্ষে বিএনপির এ ধরনের সক্রিয় কর্মী যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সাথে যুক্ত হয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল, তাদেরকে পুলিশ ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। তারা দাপটের সাথে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ইউনুস মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির সাথে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে। এ ছাড়াও সখিপুর থানার যুবলীগ নেতা শামীম বকাউল, আওয়ামী লীগ নেতা আলামিন মোল্লা, ছাত্রলীগ নেতা রবিন মোল্লাসহ অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসন তাদের গ্রেফতার করছে না। ভুলক্রমে যদি তাদের কাউকে থানায় আনা হয়, সাথে সাথে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন একজন পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ অফিসার দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। অনতিবিলম্বে পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাকে সরিয়ে একজন নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকে পদায়নের দাবী জানান তিনি।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অপসারণ দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দেয়া চিঠিতে ভোটার সোহেল রানা হৃদয় লেখেন, জুবায়ের হোসেন বিগত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইং তারিখে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে মধুপুর উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন।

একটা নির্দিষ্ট দলের সাথে আঁতাত করার মাধ্যমে তিনি স্বপদে এখনো বহাল আছে। বর্তমানে তিনি একজন প্রশাসক হিসেবে না থেকে মধুপুরের বিশেষ একটি দলের স্বক্রিয় কর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। এমন একজন প্রো-ফ্যাসিস্ট এবং নির্দিষ্ট দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা ব্যক্তির দ্বারা মধুপুরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজন হুমকি মনে করছি। এ জন্য অনতিবিলম্বে তার অপসারণ চাই।

নরসিংদী-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো: জাহাঙ্গীর আলম লিখিত অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানান, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের পক্ষে প্রচারণায় আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ লঙ্ঘন করে নির্বাচনী প্রচারপত্র (ব্যানার ও বিলবোর্ড) বিদ্যমান থেকে যায়। ১২ ডিসেম্বর রাতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের পক্ষে পঞ্চাশকুড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় ৩০০ লোকের একটি ভূড়িভোজের আয়োজন করা হয়। ১৩ ডিসেম্বর বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে মনোহরদীতে একটি মিছিল আয়োজন করে। উক্ত মিছিলে জামায়াত ও শিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক স্লোগান দেয়া হয় ও হুমকি প্রদান করা হয়। এসব বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে মৌখিকভাবে অবহিত করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এমতাবস্থায় এমন পক্ষপাতী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহানকে প্রত্যাহারপূর্বক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন তিনি।