দুই বছরে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেয়া সম্ভব : ডিএসসিসি প্রশাসক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো: আব্দুস সালাম বলেছেন, জনগণ, গণমাধ্যম ও সিটি করপোরেশন একসাথে কাজ করলে আগামী দুই বছরে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেয়া সম্ভব। নগরের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কেও গণমাধ্যমকে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের সমালোচনাকে আমি নেতিবাচকভাবে দেখি না।

গতকাল ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি দ্রুত সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজনীয় পথ বা নিষ্কাশনব্যবস্থা অনেক জায়গায় নেই। ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিন রোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পুরনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি পুনরায় কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবে এ কাজ এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। তাৎক্ষণিকভাবে জলাবদ্ধতা কমাতে পাম্প কেনা হয়েছে। আগে কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পানি কয়েক দিন জমে থাকত, এখন পাম্পের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আব্দুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকার অনেক ড্রেন পুরনো ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও বর্ষার কারণে খননকাজে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ড্রেনে পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে জলাবদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোথাও পানি জমে না থাকলে মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ কমে যায়। যেসব ব্যক্তিগত জায়গায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেন না, সেসব স্থানে সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবহারকারীকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফুটপাথের হকারদের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, রাস্তার ওপর হকার বসতে দেয়া হবে না। শুক্রবার ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময়ের পর মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবেন না। তাদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা করা যাবে না।

ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকার সব এলাকায় যাতে নির্বিচারে এসব রিকশা চলাচল করতে না পারে, সে জন্য অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।