আগডুম-বাগডুম কবিতাবলী

Printed Edition
আগডুম-বাগডুম কবিতাবলী
আগডুম-বাগডুম কবিতাবলী

শ্বশুর বাড়ির গরু

নজরুল ইসলাম শান্তু

শ্বশুর বাড়ির গরু এলো জামাই বাড়ির ঘাটায়

এসেই গরু হাম্বা ডাকে গলার আওয়াজ ফাটায়

মধ্যভোজের পরে জামাই ঘুমায় যখন ঘরে

হঠাৎ করে ঘুমভাঙে তার গরুর হাম্বা স্বরে।

জামাই-শ্বশুর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে গাঁয়ে

জামাই যদি ডাইনে হাটে শ্বশুর হাটে বাঁয়ে

জামাই চড়ে ঘোড়ার পিঠে শ্বশুর চড়ে গাধায়

তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে তারা হট্টগোলও বাঁধায়।

জামাই যদি ধমক হাঁকে শ্বশুর হাঁকে ঘুষি

কারণ ছাড়াই অকারণে করে দোষাদোষি

শ্বশুর যখন চেয়ারম্যানি পায়, মেম্বারি পায় জামাই

জামাইর চোখে ধুলো দিয়ে শ্বশুর করে কামাই।

জামাইর সাথে বাটপারিতে শ্বশুর পড়ে ফাঁদে

সেদিন থেকেই জামাই-শ্বশুর মস্ত বিরোধ বাঁধে!

শ্বশুর বাড়ির গরু দেখেই দৌড়ে জামাই মিয়া

ঘরে ফিরে শ্বশুর বাড়ির হালের গরু নিয়া।

সব সাথীদের সাথে নিয়ে দেয় যে গরু জবাই

রাত গভীরে গোশত খেয়ে ফুর্তি করে সবাই

শ্বশুর পরে জানতে পেরে মামলা ঠুঁকে থানায়

সেই ঘটনার বিরোধ মেটায় পড়শি গাঁয়ের নানায়।


একটি ছড়ার জন্য

আলমগীর কবির

একটি ছড়ার জন্য আমি কোথায় কোথায় ছুটি

সবুজ মাঠে গিয়ে দেখি পাখিদের খুনসুটি

সকাল-বিকেল বনের পাখি নাচতে থাকে গাছে

হয়তো কোনো পাখির কাছে ছড়ার জাদু আছে।

পাখিরা কি জাদু জানে জাদু জানে ছড়া?

ইচ্ছে হলেই ছড়ার পাখি যায় না কিন্তু ধরা!

একটি ছড়ার জন্য আমি কোথায় কোথায় ছুটি

নদীর কাছে গিয়ে দেখি ঢেউয়ের লুটোপুটি।

নদীর পাড়ে বসে দেখি জেলে নৌকার দোলা

নীল আকাশের কাছে নদী লিখছে চিঠি খোলা

ঢেউয়ের কাছে নদীর কাছে হয়তো পাবো ছন্দ।

বনফুলের কাছে পাবো হয়তো কিছু গন্ধ।

ঝিলের জলে পড়তে দেখি ধবল মেঘের ছায়া

সবুজ গাঁয়ের সরল চাষির হাসির মাঝে মায়া!

একটি ছড়ার জন্য আমি কোথায় কোথায় ছুটি

সকাল থেকে কমলা নদীর বাঁক পেরুলাম দু’টি!


খেলতে মাঠে যখন গেলাম

জাহেদুল ইসলাম বাঁধন

ছিলাম ক’দিন বন্দী ঘরে, শুইয়ে এবং হেঁটে

খেলতে মাঠে যখন গেলাম, আঘাত পেলাম পেটে

পেট শুধু না আমার ঘাড়ে-ভীষণ লাগে চাপা

দুষ্টুমি না সত্যি বলি, বুঝল না আর আপা।


স্বপ্নরঙিন হেমন্ত

বাবু হক

হেমন্তকাল জুড়ে থাকে

মাঠে ধানের হাসি

খুশি মনে মাঠের কাজে

ব্যস্ত গাঁয়ের চাষি।

পাকাধানের সোনারঙে

চাষির স্বপ্ন আঁকা

সকল চাওয়া পূর্ণ হবে

অভাব পরবে ঢাকা।

ধান কাটবে মাড়াই হবে

তারপরে তো চাল

আসবে স্বজন নিমন্ত্রণে

আজ অথবা কাল।

নতুন চালের পিঠাপুলি

কতরকম ভোগ

আনন্দ উল্লাসে সবাই

করবে উপভোগ।

যেই স্বপ্ন চাষি দেখেন

হেমন্তকাল ঘিরে

সেই স্বপ্নের বাস্তবতা

আসুক চাষির নীড়ে।


হেমন্তকাল

কোমল দাস

চলছে এখন হেমন্তকাল

বলল শালিক ছানা

তার মা বলেন, কী করে তা

তোমার হলো জানা?

বলল ছানা, ওই দেখো মা

পেকে গেছে ধান

শুনতে পারছি দিকে দিকে

নবান্নেরই গান।

শিশির দেখো পড়ে আছে

পথের নরম ঘাসে

বইয়ে আছে হেমন্তকাল

এসব হলেই আসে।

হেমন্তকাল নিয়ে আমি

আরো মাগো জানি

ছয়টি ঋতুর মধ্যে হলো

হেমন্তকাল রানী।


হেমন্তের সংসার

মেহেরুন ইসলাম

এসেছে হেমন্ত

খুকির মন দুরন্ত!

লাল শাড়িতে ঘোমটা

নিচ্ছে ফুলের ওমটা।

শিউলী মালা গলায়

লাজুক হেসে পলায়

পাখির মিষ্টি গানে

কেমন জানি টানে!

লাল -সবুজের ফুল

যেন কানের দুল

নীল সাদা গগনে

সুর তোলে মননে।

আলত শিশির ছুঁয়ে

হাঁটে নুয়ে নুয়ে

ঘাসফুলেদের সাথে

সোনার সংসার পাতে।

ভাত তরকারি রাঁধে

মিষ্টি করে সাধে

গলায় গলায় জুটি

সন্ধ্যে হলে ছুটি।


কাঠবিড়ালির জয়

এম এ জিন্নাহ

কাঠবিড়ালি হাঁটে এলো

কিনতে আলুর কেজি

আলুর গায়ে রঙে ভরা

বিক্রি করে বেঁজি।

কাঠবিড়ালি দামটি জানতে

বলল কেজি কত ?

বেঁজি বলল তোমার কাছে

টাকা আছে যত!

কাঠবিড়ালি হেসে দিলো

বলল তুমি বোকা

আমার কাছে অল্প টাকা

তুমি খাবে ধোঁকা!

সাক্ষী ছিল শিয়াল ছানা

রায় দিয়েছে তাতে

চালাক বেঁজি ধরা খেল

কাঠবিড়ালির হাতে।


হেমন্তের রূপ

যাইদ আল মারুফ

এ হেমন্তে কৃষক হাসে পাকা ধানের মাঝে

পল্লীবালা ব্যস্ত থাকে ধান শুকানো কাজে

চাষার ছেলে পুটলি ভরে আনে ভাতের হাঁড়ি

ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে ফিরে আপন বাড়ি।

বিল চাতালে পায়রা ঘুঘু দেয় যে ধানে হানা

কাকতাড়ুয়া টুনটুনিতে শুনে না আর মানা

দিন দুপুরে ধাড়ি ইঁদুর ধানের গোলা খোঁজে

কাঠবিড়ালি দানা জমায় শীতের উঁকি বুঝে।

ফসল ভরা মাঠের সাজে মনটা ভরে ওঠে

মাতাল করা মিষ্টি ঘ্রাণে ছাতিম ফুল ফোটে

ভোর সকালে সন্ধ্যাবেলা শীতের আভা হাসে

এ হেমন্তে শেষের দিকে কুটুমপাখি আসে।