জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে তখন চলছিল ৪৫তম জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতার শেষ দিনের খেলা। সেই সময় ট্র্যাকের পাশেই মেয়েকে ফিডারে পানি খাওয়াচ্ছিলেন মা নিশি খাতুন। প্রচণ্ড রোদের কারণে অবশ্য বেশিক্ষণ সেখানে থাকতে পারলেন না। কোলের সন্তানসহ নিজেকে রোদ থেকে বাঁচতে চলে গেলেন গ্যালারির শেডের নিচে। ১৭ মাস বয়সী মেয়েকে একা আনেননি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের এই সাইক্লিস্ট। সাথে মাকেও নিয়ে এসেছেন। উদ্দেশ্য মেয়েকে দেখাশোনা করার জন্য। এই মিশনে পুরোপুরি সফল জামালপুলের এই নারী ক্রীড়াবিদ। এবারের আসরে দু’টি স্বর্ণ, দু’টি রৌপ্য এবং একটি ব্রোঞ্জ জিতেছেন। পদক জিতে উৎফুল্লা চিত্তে নিশি জানান, আমার মেয়ের জন্যই এই পদকগুলো। বিশেষ করে ৩০ কিলোমিটার রোড টাইম ট্রায়ালের স্বর্ণটি আমি তাকেই উৎস্বর্গ করেছি।
২০১৮ সালে বিজিবিতে যোগদান নিশি খাতুনের। তা সাইক্লিস্ট হিসেবেই। এর আগে ২০১৭ সালে বিজেএমজির হয়ে খেলেছিলেন। সেবার একটি স্বর্ণ এবং একটি রৌপ্য জয় তার। এ পর্যন্ত গলায় তুলেছেন সাতটি স্বর্ণ ছয়টি রৌপ্য এবং তিনটি ব্রোঞ্জ। টাঙ্গাইলে কলেজ শিক্ষক স্বামী। তার উৎসাহ আরো প্রেরণা জোগাচ্ছে নিশিকে। আর খেলাধুলা নিরবচ্ছিন্ন চালিয়ে রাখার জন্য নিজের মাকে সাথেই রাখেন নিশি। ফলে মেয়ে আদিবা নূর ইবনাথ নানীর কাছেই বড় হচ্ছেন। কালও তিন প্রজন্মের তিনজন জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজির।
সাইক্লিং অনুশীলনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে সময় দেয়া লাগে। এতে ছোট্ট মেয়েটি মাকে তেমন কাছে পায় না। ফলে মায়ের জন্য অনেক কান্না কাটি করে। শিশু মেয়েটির এই কষ্ট তাড়িয়ে বেড়ায় মা নিশিকে। কিন্তু প্র্যাকটিস শেষে যখন বাড়ি ফেরা তখন মেয়ের মুখ দেখলেই খুশিতে মন ভরে যায় মায়ের। নিশি জানান, আমার সব কস্টইতো এখন ওর জন্য। তাকে বাসায় নানীর কাছে রেখে আসি। নিজে নিজে অনুশীলন করি। এরপর মূল আসরে লড়াই করি। তখন লক্ষ্য থাকে একটাই আমাকে পদক জিততেই হবে। আর তা মেয়েটির জন্য।
বাংলাদেশে সাইক্লিং এখনও জনপ্রিয় নয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বড় কোনো অর্জন নেই। নিশি ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান ট্র্যাকে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে হওয়া এস এ গেমসেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে কোনো পদক জেতা হয়নি। তবে এখন ঘরোয়া আসরের গণ্ডি পেরিয়ে পদক তথা স্বর্ণপদক জয় করতে চান এই মেয়ের জন্য। জানান নিশি।
এবারের আসরে তিনি ৩০ কিলোমিটার রোড টাইম ট্রায়াল এবং এক হাজার মিটার টাইম ট্রায়ালে স্বর্ণ জয় করেন। এ ছাড়া ৩০ কিলোমিটার টিম টাইম ট্রায়াল ও এক হাজার মিটার টিম টাইম ট্রায়ালে রৌপ্য এবং অলিম্পিক স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।



