লেবাননে যুদ্ধবিরতি দাবি জি ৭ নেতাদের

Printed Edition
জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প, ম্যাক্রনসহ বিশ্ব নেতারা  : ইন্টারনেট
জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প, ম্যাক্রনসহ বিশ্ব নেতারা : ইন্টারনেট

রয়টার্স

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে আয়োজিত বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি সেভেন সম্মেলনে বিশ্বনেতারা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে বিশ্ব বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানোর অঙ্গীকার করেছেন। এ লক্ষ্যে জ্বালানি সরবরাহের বহুমুখী বিকল্প রুট দ্রুত চালুর বিষয়ে নেতারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন।

আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি মূলত একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরবর্তী ৬০ দিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে। এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

বুধবার এক বিবৃতিতে জি সেভেন নেতারা বলেন, ‘ওই আঞ্চল ও এর বাইরে ইরানের হুমকি মোকাবেলা এবং ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আরো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’ সম্মেলনটি ট্রাম্পের জন্য ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের মতো প্রধান মিত্রদের কাছে তার ‘ইরান চুক্তি’ উপস্থাপনের একটি বড় সুযোগ ছিল। মিত্রদেশগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে একমত হলেও ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ সহ্য করে এবং ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে বলে দেশগুলো উদ্বিগ্ন।

তবে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি জোট শুক্রবার হরমুজ প্রণালী ফের খোলার পর জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য অর্জনের কথা বলেছিলেন, তার খুব কমই তার করা চুক্তির মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। কারণ, ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকার এখনো বহাল রয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ধ্বংস করা যায়নি, হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থনও বন্ধ করা যায়নি।

তা ছাড়া এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লেবাননের ভবিষ্যৎ। গত মার্চে ইসরাইলি অভিযানের পর সেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি সেনারা এখনো দক্ষিণ লেবানন দখল করে রেখেছে। ইরান শর্ত দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর হতে হবে এবং ইসরাইলি বাহিনীকে সেখান থেকে সরতে হবে। তবে শান্তি আলোচনা থেকে বাদ পড়া ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের সাথে তাদের দূরত্ব তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিচালনার ধরনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না।’জি সেভেন নেতারা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি দাবির পাশাপাশি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হিজবুল্লাহর একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ইসরাইলের দখলদারিত্ব শেষ না হলে ইরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে না বলেই তারা বিশ্বাস করেন।

এ দিকে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে যাওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে, যার ফলে বাজারে অতিরিক্ত তেলের সরবরাহ বাড়বে। তবে জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জি সেভেন নেতারা জ্বালানি সরবরাহ রুটের বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মজুদ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন।