কলম্বিয়ার আক্রমণের বিপরীতে কঙ্গোর রক্ষণ

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

১৯৭৪ সালে প্রথম জার্মানি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল ডিআর কঙ্গো। সে সময় দেশটির নাম ছিল ‘জাইরে’। সেবার তিন ম্যাচের সব ক’টিতেই পরাজিত হওয়া ম্যাচে ১৪টি গোল হজম করেছিল তারা। ৫২ বছর অপেক্ষার পর চলমান বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো মূল মঞ্চে আফ্রিকার দেশটি। আর দ্বিতীয়বার বিশ্ব আসরে খেলতে এসেই পর্তুগালের মতো ফেবারিট দলকে ১-১ গোলে রুখে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছিল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে এবার মুখোমুখি হবে ল্যাটিন অঞ্চলের দেশ কলম্বিয়ার। গ্রুপ ‘কে’র ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় কাল সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে এস্তাদিও গুয়াদালাহারায়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুরু করেছিল জেমস রদ্রিগেজের দল। ফলে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে এই লড়াই দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ম্যাচে ফলাফল নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণকে অনেকটাই পরিষ্কার করে দিতে পারে।

কলম্বিয়া প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে। ম্যাচটিতে দলটির আক্রমণভাগ ছিল প্রাণবন্ত এবং দ্রুতগতির। বিশেষ করে গোল ও অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন লুইস দিয়াজ। ড্যানিয়েল মুনিয়োজ ও জামিন্টন কাম্পাজও গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে জয় পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে, যা কোচ নেস্তর লরেঞ্জোকে ভাবাচ্ছে। তবে দিয়াজ, মুনিয়োজ এবং কাম্পাজের পারফরম্যান্সে ভর করে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামবে কলম্বিয়া।

ডিআর কঙ্গো ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের অন্যতম চমক দেখিয়েছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে তারা সবার নজর কাড়ে। ম্যাচটিতে তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। ইয়োয়ানে উইসার গোলটি শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, বরং দেশটির বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম গোল এবং প্রথম পয়েন্টও এনে দিয়েছে। উইসার পাশাপাশি সেড্রিক বাকাম্বু এবং অধিনায়ক শসেল মেম্বার অভিজ্ঞতা দলটিকে বাড়তি শক্তি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে ডিআর কঙ্গো কখনো মুখোমুখি হয়নি কলম্বিয়া। দল দু’টি এর আগে কোনো ফিফা বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স বা কোনো প্রীতি ম্যাচেও একে অপরের বিপক্ষে খেলেনি। চলমান ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দেশ।