ছাতক নদীবন্দরে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় ট্যারিফ ও ইজারা শর্ত নিয়ে প্রশ্ন

বাল্কহেডপ্রতি ১৩-১৮ হাজার টাকা আদায়

Printed Edition

আমিনুল ইসলাম হিরন ছাতক (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের ছাতক নদীবন্দরে ইজারার নির্ধারিত শর্তের বাইরে বাল্কহেড থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, ছাতক নদীবন্দর এলাকায় চলাচলকারী প্রতিটি বাল্কহেড থেকে বিভিন্ন খাতে ১৩ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে এসব অর্থ কোন খাতে এবং সরকারি নির্ধারিত কোন ট্যারিফের ভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাময়িক কার্যাদেশে বলা হয়েছে, নৌযান থেকে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত শুল্কের হার অনুযায়ী অর্থ আদায় করতে হবে এবং অধিক শুল্ক নেয়া যাবে না। ইজারার শর্ত ভঙ্গ হলে কার্যাদেশ বাতিলের বিধানও রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ সিলেট আঞ্চলিক দফতরের ১৫ আগস্টের নথি অনুযায়ী, মামলা-সংক্রান্ত কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ছাতক নদীবন্দরের নৌযান/জাহাজের এলএসসি ও বার্দিং চার্জ আদায় কেন্দ্রের উন্মুক্ত টেন্ডার স্থগিত রয়েছে। এ কারণে ১৬ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৫ দিনের জন্য সাময়িক কার্যাদেশ দেয়া হয়। এতে ইজারাদার হিসেবে জুয়েল, পিতা জয়নাল আবেদীনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২৫ দিনের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এর সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ১২ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ টাকা এবং ১০ শতাংশ আয়কর আট লাখ ৪৩ হাজার ৪০০ টাকা পরিশোধের তথ্য রয়েছে।

সরকারি ট্যারিফ অনুযায়ী, ইজারাকৃত ঘাট বা পয়েন্ট দিয়ে মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন বা অংশবিশেষ ৭০ টাকা হারে চার্জ নেয়ার বিধান রয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত জেটি বা অবকাঠামো দিয়ে মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন ৫০ টাকা এবং ঘনফুটে পরিমাপযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুট ৫০ পয়সা হারের উল্লেখ রয়েছে। ফলে নৌযানভেদে আদায়যোগ্য অর্থ পণ্যের ধরন, পরিমাণ ও প্রযোজ্য সেবার ওপর নির্ভর করার কথা।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা কয়েকটি রসিদেও একই নৌযান থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। ‘মেঘনা-৯’ নামের একটি নৌযানের জন্য ছাতক পৌরসভার নামে দু’টি রসিদে মোট এক হাজার ৬৮০ টাকা এবং বিআইডব্লিউটিএর নামে আরেকটি রসিদে সিমেন্টের শুল্ক বাবদ ১৩ হাজার টাকা আদায়ের তথ্য রয়েছে। তবে এসব অর্থ কোন কোন সেবার বিপরীতে নেয়া হয়েছে এবং একই এলাকায় একাধিক খাতে অর্থ আদায়ের বৈধতা কী, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়।

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিএ সিলেট আঞ্চলিক দফতরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে সরকারি ট্যারিফ অনুযায়ী বালুর ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুট ৫০ পয়সা এবং পাথরের ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন ৭০ টাকা হারে শুল্ক নেয়ার অনুমতি রয়েছে বলে জানান তিনি। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মহি উদ্দিন বলেন, তিনি দায়িত্ব নেয়ার আগে পৌরসভা ইজারা দিয়েছে। একই এলাকায় নৌপথে দু’টি ইজারা দেয়া হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

ছাতক নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অরবিন্দ সরকার বলেন, নৌযান মালিকরা অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জানান, এ বিষয়ে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বিট পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত শুল্ক দিতে তাদের আপত্তি নেই। তবে প্রতিটি বাল্কহেড থেকে ১৩-১৮ হাজার টাকা আদায় করা হলে এর খাত, পণ্যের পরিমাণ, প্রযোজ্য ট্যারিফ ও রসিদের হিসেব স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, নৌযানভিত্তিক রসিদ, পণ্যের পরিমাণ ও সরকারি ট্যারিফের সাথে আদায়কৃত অর্থ মিলিয়ে দেখলেই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ইজারাদার জুয়েলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।