চট্টগ্রাম-১ আসনে জমে উঠেছে প্রচারণা

জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে নারী ও তরুণ ভোটার

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
Printed Edition
জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে নারী ও তরুণ ভোটার
জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে নারী ও তরুণ ভোটার

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে জমে উঠেছে পোস্টারবিহীন নির্বাচনী প্রচারণা। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখনো পুরোপুরি ভোটের আমেজ দৃশ্যমান নয়। তবে প্রচারের গতি ও পরিসর দিন দিন বাড়ছে। মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সরব প্রচারণা।

এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান। দুই প্রার্থীই সিডিউল অনুযায়ী প্রতিদিন উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উঠান বৈঠক, পথসভা ও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছেন তারা। একই সাথে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেয়া হচ্ছে ভোট প্রার্থনার বার্তা।

এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী এবং জাসদ (আ স ম আবদুর রব) মনোনীত এ কে এম আবু ইউসুফ। তারাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপিং থাকলেও এবারের নির্বাচনে দলীয় ঐক্যের চিত্র দৃশ্যমান বলে দাবি করছেন দলটির নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলের ৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সবাই একক প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে জামায়াতও সুসংগঠিতভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের নারী কর্মীবাহিনীও মাঠে সক্রিয়, যা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নারী ও তরুণ ভোটাররাই হতে পারেন জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার জানান, মিরসরাই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৮৬ হাজার ৮১১ জন এবং ট্রান্সজেন্ডার ভোটার চারজন। পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ছয় হাজার ৫৭২ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৬টি এবং বুথের সংখ্যা ৭১৮টি। সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। এর মধ্যে মিরসরাই থানার ৪৯টি কেন্দ্রের ২১টি ও জোরারগঞ্জ থানার ৫৭টি কেন্দ্রের ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ২৩ হাজার ৯৭২ জন। এই তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল কবির বলেন, ‘মানুষ বারবার বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায় এনেছে, কিন্তু কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসেনি। তাই এবার জামায়াতে ইসলামীর দিকে মানুষ ঝুঁকছে। আমরা আশাবাদী, অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।’ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দল থেকে ত্যাগী ও মাঠের নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সব গ্রুপিং নিরসন করে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নুরুল আমিনের পক্ষে কাজ করছি।’ জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। পুরো উপজেলায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিজয়ী হবো, ইনশা আল্লাহ।’

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ভোট দিতে সবাই মুখিয়ে আছে। মিরসরাইয়ের ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের বিজয় হবে।’ সব মিলিয়ে পোস্টারবিহীন প্রচারণার এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত নারী ও তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য কে হচ্ছেন।