মো: জুলফিকার আলী পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২৫ দশমিক ৮৫ একর আবাদি জমিতে বন বিভাগের বনায়নের উদ্যোগের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই শতাধিক কৃষক। তাদের দাবি, এ জমিতে বনায়ন করা হলে দেড় শতাধিক কৃষক পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
গত মঙ্গলবার পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাব সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউসুফ আলী ও এ কে এম ফজলুল হক।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার বাঁশগাড়া মৌজার (জেএল নং-৮০) খতিয়ান নং ১৬ ও ২৭৭ এবং দাগ নং ২৭৫, ২৭৯/৮০৫, ২৮৫ ও ২৪৭-এর আওতাধীন মোট ২৫ দশমিক ৮৫ একর জমি ১৩৫১ বঙ্গাব্দে কবুলিয়ত দলিল ও পত্তনমূলে কামাল উদ্দিন, আসির উদ্দিন, সহির মোহাম্মদ ও হাফিজ উদ্দিনের দখলে আসে। পরে ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডে জমিগুলো তাদের নামে অন্তর্ভুক্ত হয় বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ১৯৮২ সালে বন বিভাগ স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় ওই জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি তৎকালীন কৃষিমন্ত্রীর নজরে আনা হয়। পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তদন্ত করে সেখানে ইরি-বোরো, আমন ও ইক্ষুসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের সত্যতা পান এবং জমি গেজেট থেকে অবমুক্তির সুপারিশ করেন বলে কৃষকদের দাবি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব সংক্রান্ত ২৩/২৬, ২৪/২৬, ২৫/২৬ ও ৩০/২৬ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে। এরপরও বন বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় পুনরায় বনায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদের দাবি, জমিগুলোতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে দেড় শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়।



