চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে অনলাইন জুয়া

নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার * ২ জন গ্রেফতার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফল অভিযান চালিয়ে রাশিয়া থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন জুয়া (বেটিং) সাইটের বাংলাদেশী অ্যাডমিনসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। একই সময়ে অন্য একটি অভিযানে চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে লাখ লাখ টাকা সরিয়ে নেয়া চক্রের মূল হোতা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডি থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট রাজশাহী ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সৈয়দ জামান রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের মূল বাংলাদেশ অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করছিলেন।

মামলার এজাহার ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, এই চক্রটি দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ম্যাচ এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে জুয়া বা বেটিং পরিচালনা করত। জুয়াড়িরা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংকের মাধ্যমে যে টাকা জমা দিত, তা থেকে এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন কেটে রাখত। এরপর অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো।

এ দিকে সিআইডির যশোর জেলা ইউনিটের আরেকটি দল দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত শাহিন একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার এবং সঞ্জয় একই প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে গ্রাহকদের প্রতারিত করত। শাহীনুর রহমান শাহিন তার সুপারভাইজার পদের অপব্যবহার করে তার অধীনস্থদের দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ একাধিকবার সংগ্রহ করতেন। একটি সিম গ্রাহককে দিয়ে বাকি আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে অতিরিক্ত একাধিক সিম নিবন্ধন করে নিতেন। পরবর্তীতে এই অবৈধ সিমগুলো ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হতো এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে ক্রেডিট কার্ড ও আর্থিক প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো।

এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন যশোরের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যশোরের একটি শোরুম থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পোশাক কেনার সময় কার্ডের লেনদেনে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। এর কিছুদিন পর নিজেকে ব্যাংকের (ইবিএল) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক প্রতারক ওই চিকিৎসককে ফোন করে এবং কার্ডটি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে বলে সচল করার বাহানায় তার কার্ডের যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নেয়। সেই রাতেই মাত্র কয়েকটি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে চিকিৎসকের অ্যাকাউন্ট থেকে তিন লাখ ৪১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ছয়টি অবৈধ এমএফএস অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে নেমে সিআইডি দিনাজপুর থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় এই চক্রের হোতাদের গ্রেফতার করতে সম হয়।