চট্টগ্রামের ডিসি হিলে নজরুল মুক্তমঞ্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের পরিচিত জায়গাগুলোর অন্যতম ডিসি হিল। সংস্কারের অভাবে জীর্ণ হওয়ায় ডিসি হিলকে আরো সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটিকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে আমরা ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারও সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম ডিসি হিলে নজরুল স্কয়ারে মুক্তমঞ্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নজরুল স্কয়ারে মুক্তমঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নজরুল মুক্তমঞ্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত ও নকশা ডিজাইনার স্থপতি প্রণব মিত্র। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মো: কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, কবি নজরুলের সৃষ্টিকে আমরা লালন করতে চাই এবং সেই আঙ্গিকে নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষার্থীরা তরুণ প্রজন্মের অহঙ্কার। তারা সাংস্কৃতিকে লালন-পালনের মাধ্যমে সংস্কৃতি চর্চা করেন।

ডিসি বলেন, ১৯২৬ সালে কাজী নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে এসে ডিসি হিলে অবস্থান করেছিলেন। তার সেই অবস্থানের শতবর্ষে স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নজরুল চর্চার সুযোগ বাড়াতে মুক্তমঞ্চটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

নজরুলের আপসহীনতার প্রসঙ্গ টেনে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কবি নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের সাথে আপস করেননি। কোনো কিছুর কাছে তার বিবেক কখনো পরাজিত হয়নি। পরাজিত বিবেক দিয়ে কোনো কিছু অর্জন করা যায়, কিন্তু সেই অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তিনি বলেন, নজরুল যেভাবে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই চেতনায় তরুণ সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।

নির্মাণকাজ শেষ হলে নজরুল মুক্তমঞ্চে নজরুলের সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।