ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির বিষখালি নদীর তীব্র ভাঙনে নলছিটি উপজেলার দু’টি বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় বিদ্যালয় দু’টি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। গত ১৫ আগস্ট বিশাল একটি ভাঙনে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ নদীর বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুরে অবস্থিত ভাবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নদী থেকে দূরত্ব খুবই সামান্য। জোয়ারের সময় পানিতে বিদ্যালয়ের মাঠ তলিয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ে বিদ্যালয়ের ভবনে। এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দার জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৯০ জন শিক্ষার্থী আছেন। নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বিদ্যালয় ভবনের কাছে এসে পৌঁছেছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুবই আতঙ্কে থাকি কখন না অঘটন ঘটে যায়। বেড়িবাঁধ না থাকায় বাচ্চারা নদীতে ছুটে যায় আবার জোয়ারের সময় পানি মাঠে থইথই করে। এর চেয়েও বড় আতঙ্ক হলো যে হারে ভাঙছে তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবন নদীতে বিলীন হতে পারে। তাহলে এই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘœ ঘটবে। কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টা গুরুত্বসহকারে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়।
ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার ও হাসানুজ্জামান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে একসময় তিনশত শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু এই নদী ভাঙনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সঙ্কট হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের অন্যত্র ভর্তি করাচ্ছেন। আমাদের এখানে এখনো সব শ্রেণী মিলিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আছে। তবে বিষখালির প্রবল ভাঙন আমাদের বিদ্যালয়ের খুব কাছে চলে এসেছে। একটি বেড়িবাঁধ ছিল সেটাও কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ নদীতে চলে গেছে। এখন যেটুকু মাঠ অবশিষ্ট আছে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে মাঠ আর বিদ্যালয় ভবন নদীতে যেতে সময় লাগবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক শাহিন হাওলাদারসহ কয়েকজন বলেন , বিষখালির ভাঙনে এই এলাকার বহু বাসিন্দা ভূমিহীন হয়েছেন। এই বর্ষায় ভাঙন আরো বেড়েছে। প্রতিদিনই কারো না কারো বাড়িঘর, কৃষিজমি নদী গ্রাস করছে। আমার সন্তান এখানের বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে কিন্তু বিদ্যালয় দু’টি এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন যাতে দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুণ্ডু জানান, ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো পরিদর্শন করেছেন। আমরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে যতদ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



