নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো: আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে অতিরিক্ত মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট গেম ব্যবহারও নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর। সব ক্ষতিকর দিক পরিহার করে সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সহযোগিতায় পুলিশ হেডকোয়ার্টাস এই আয়োজন করে।
অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি মো: ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, অভিভাব এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, আজ তোমাদেরকে যে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে, তা শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি তোমাদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি, ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের বিশ্বাস এবং তোমাদের সম্ভাবনার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতীক। মেধা মানুষকে এগিয়ে দেয়; কিন্তু সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সত্যিকারের মহান করে তোলে। তাই তোমাদের শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলে চলবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের আজকের কৃতিত্বই যেন আগামী দিনের একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হয়ে ওঠে। সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি, অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর। প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। দেশের নাগরিক হিসেবে প্রচলিত আইন মেনে চলবে ও অন্যদের মানতে উৎসাহিত করবে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অব্যাহত সাফল্যের জন্য তোমাদেরকে নিরলস পরিশ্রম করতে হবে। জীবনে উন্নতি করতে হলে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ সময় তিনি স্ক্রিন টাইম কমিয়ে পড়ালেখায় গভীর মনোনিবেশের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে যেতে হবে। সব খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলা করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন কাজী মো: তানান হোসেন, সৈয়দা সাবিহা মুশাররাত মুমু, মো: আদনান জাওয়াদ ও মুস্তাইনা মঞ্জুর। তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সেই সাথে মেধাবৃত্তি প্রদানের প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেয়ায় বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত ডিআইজি শম্পা ইয়াসমিন এবং পুলিশ পরিদর্শক শেখ ফারুকুজ্জামান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮৪৫ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ এ দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট দুই হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাস্থ ৩৬০ জনকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। অন্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি দেয়া হবে।



