কোয়ালিফাই করাই রাজশাহী স্টার্সের লক্ষ্য

Printed Edition
কমলাপুর স্টেডিয়ামে গতকাল শুরু হওয়া রাজশাহী স্টার্সের অনুশীলন : রাজশাহী স্টার্স
কমলাপুর স্টেডিয়ামে গতকাল শুরু হওয়া রাজশাহী স্টার্সের অনুশীলন : রাজশাহী স্টার্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শর্তপূরণ করেছেন রাজশাহী স্টার্স। এর পরও কিছুটা সমস্যা ছিল। তা উৎরানো গেছে। ফলে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের এই চ্যাম্পিয়ন দল। ২৪টি দল খেলছে বাছাই পর্বে। ছয় গ্রুপে বিভক্ত দলগুলো। রাজশাহী স্টার্স পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে। বাছাই পর্ব তথা প্রিলিমিনারি পর্ব শেষে প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল কোয়ালিফাই করবে গ্রুপ স্টেজে। সেই গ্রুপ স্টেজে সরাসরি খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার নায়েগোইয়াং। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সিটি, দক্ষিণ কোরিয়ার হাওয়াসিয়ন কেএসপিও, জাপানের কোবে লিওনেসা, চীনের বেইজিং জিংতান এবং ভিয়েতনামের হোচিমিন সিটি খেলবে গ্রুপ পর্বে। ১২ দলের গ্রুপ পর্ব শেষে সেরা আট দলের কোয়ার্টার ফাইনাল। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। প্রিলিমিনারি রাউন্ড ১৭ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ১-৭ নভেম্বর। তবে কোয়ার্টর ফাইনাল আগামী বছর ২৭ ও ২৮ মার্চ। এরপর ১৯ মে সেমিফাইনাল শেষে ২২ মে ফাইনাল।

গ্রুপে রাজশাহী স্টার্সের প্রতিপক্ষ ভারতের ইস্টবেঙ্গল, মালয়েশিয়ার সাবাহ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র গুয়ামের রোভার্স এফসি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে রাজশাহী স্টার্সের প্রধান বাধা ইস্টবেঙ্গল। ১৭ আগস্ট প্রথম ম্যাচেই রাজশাহী স্টার্স পাচ্ছে কলকাতার এই ক্লাবকে। ২০ আগস্ট সাবাহ এবং ২৩ তারিখে রোভার্সের বিপক্ষে খেলবে। অন্য দিকে গতকালই কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন দলের হেড কোচের দায়িত্ব নিয়ে কোচিং শুরু করেছেন। বাংলাদেশী ক্লাবটি ১৫ তারিখে মালয়েশিয়া যাবে। প্রস্তুতির সময়টা কমই। তবে এটাকে সমস্যা মনে করছেন না কোচ ছোটন। জানান, আমাদের দলের খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের ক্যাম্পে অনুশীলনেই ছিল। তা ছাড়া তাদের আমি চিনি জানি। তারাও আমার কোচিং স্ট্রাইল সম্পর্কে অবগত। সুতরাং কোনো সমস্যা হবে না।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে সবচেয়ে সফল এই কোচের আশাবাদ, ‘আমরা প্রথম ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে গ্রুপ সেরার পথে এগিয়ে যেতে চাই। এরপর মালয়েশিয়ান ও গুয়ামের ক্লাবের সাথে ম্যাচ। আশা করি তিন ম্যাচে জিতেই পরের রাউন্ডে উঠব।’ ছোটনের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ার কারণ, বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়দেরই তিনি পাচ্ছেন। তার মতে, যারা গত লিগে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভালো করেছে তাদেরই নেয়া হয়েছে দলে।’ এরপর তথ্য দেন, ‘ইস্টবেঙ্গল দলে তিন জন বিদেশী আছে। আমরা তাদের সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ ও এএফসির আসরের ম্যাচের ভিডিও দেখেছি। আশা করি ভারতের ক্লাবকে হারাতে পারব।’

দলের সহকারী জহির ইকবাল কোচ জানান, আমরা তো ভারতীয় দলের বিপক্ষে আগেও খেলেছি এবং জয়ও পেয়েছি। সেই ভারতীয় জাতীয় দলের ফুটবলাররাই আছেন ইস্টবেঙ্গলে। সুতরাং তাদের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আমরা।

এ দিকে রাজশাহী স্টারস দলে মাত্র একজন নেপালি ডিফেন্ডার বিমলা বিকেকে পাচ্ছে তারা। মিয়ানমার লিগে খেলায় দীপা শাহীকে পাচ্ছে না তারা। লিগ চ্যাম্পিয়ন দলটি আরো পাঁচ ফুটবলার নিয়েছে অন্য ক্লাব থেকে। এতে বেশ পোক্ত দলটি। জাতীয় দলের ক্যাম্পের বাইরে সেনাবাহিনীর ডিফেন্ডার পুজা দাশ, স্ট্রাইকার সুলতানা এবং রাজশাহীর গোলরক্ষক সূরধ্বনি কিসকুকে নিয়েছে তারা।

অবশ্য দলটির ফরোয়ার্ড লাইন বেশ শক্তিশালী। তহুরা খাতুন, ছোট শামসুন্নাহার, আলপি আক্তার, শাহেদা আক্তার রিপা, সৌরভী আকন্দ প্রীতিরা আছেন। এ ছাড়া মনিকা চাকমা, মারিয়া মাণ্ডা, স্বপ্না রানীরাও যাচ্ছেন দলের সাথে। পোস্টের নিচে রূপনা চাকমা, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, ডিফেন্সে আফঈদা, শিউলী আজিম, সৌরভী আফরিনরা আছেন। মিডফিল্ডে, মুনকি আক্তার, শান্তি মার্ডি, উন্নতি খাতুনরা দলের শক্তি।