বিনোদন প্রতিবেদক
‘যারা গান শিখতে আসে আমার কাছে, তারা যেন গান দিয়েই জীবনে বহুদূর যেতে পারে, অর্জন করতে পারে সাফল্য- এর চেয়ে বড় কিছু চাওয়া নেই আমার। আর যদি কখনো কোথাও আমার কথা একটু স্মরণ করে সেটা হবে আমার প্রাপ্তি। এরচেয়ে বড় প্রাপ্তিতো আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিছু হতে পারে না’ -সঙ্গীতে নিজের শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে এমনই বলছিলেন নেত্রকোনা শহরের আলোচিত, সমাদৃত গানের শিক্ষক রতন কুমার সরকার। মূলত তিনি তার কাছে গান শিখতে আসা শিক্ষার্থীদের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতেই তালিম দিয়ে থাকেন। ১৯৮৬-৮৭ সালে যখন কলেজে পড়েন তখন থেকেই গানে শেখাতেন আগ্রহীদের। তবে নব্বই দশকের শুরু থেকে তিনি পেশাগতভাবেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম দেয়া শুরু করেন নেত্রকোনা শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। রতন কুমার সরকারের মা নানা নগেন্দ্র সরকার গান গাইতেন। রতন কুমারের মা রেনু বালা সরকারও গান গাইতেন। যে কারণে ছোটবেলা থেকে বিশেষত ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ের গানের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ জন্মায়। পরিবার থেকেই গানের শিক্ষা পেলেও পরবর্তীতে গোপাল দত্ত, সবিতা সেন ও ভারতের অরিন্দম ভট্টাচার্য্যরে কাছে বিশেষত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম নেন রতন কুমার সরকার। এরপর যা শিখেছেন তা নিজের প্রচেষ্টায়। রতন কুমার সরকার নিজে খুব ভালো গাইতে পারেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দের গান। একজন খুব ভালো গায়ক হিসেবেও নেত্রকোনা ও এর আশপাশের এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে। তবে একজন গানের শিক্ষক হিসেবে তিনি সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। রতন কুমার সরকার একসময় একটি এনজিওতে চাকরি করতেন, জীবনের প্রয়োজনেই তা করতেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগ চাকরি করার পর অনুভব হলো যে গান থেকে তিনি দূরে চলে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে পূর্ণ মনোযোগ দেন তিনি আগ্রহীদের গান শেখানোর বিষয়ে। বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে গানে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এই মুহূর্তেও তার কাছে ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী গান শিখছেন। রতন কুমার সরকার বলেন, ‘তানজিন মিথিলা, স্বর্ণা তালুকদার, কাশফিয়া, শ্রেয়া, তন্নাসহ আরো অনেকেই গানের ভুবনে জাতীয় পর্যায়ে খুব ভালো করছে। অনেকেই এই মুহূর্তে ভারতে আছে, গান শিখছে। সবাইকে নিয়ে আমার গর্ব হয়, ওরা ভালো করছে। সত্যি বলতে কী, গানের মূল প্রশিক্ষণটা হলো উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতটা একজন শিল্পী পারফেক্ট করতে পারলে সে বহুদূর যেতে পারে। তাই আমি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতেই মনোযোগটা দিতে বলি সবাইকে। আমার সহধর্মিণী মনি সবসময়ই আমার পাশে থেকে আমাকে ভীষণ অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’ রতন সরকার নেত্রকোনার ‘হায়দার শেলী স্মৃতি সঙ্গীত বিদ্যানিকেতন’, ‘শতদল সাংস্কৃতিক একাডেমি’, ‘প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক একাডেমি’, ‘শিশু একাডেমি’ ও ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র নিয়মিত সঙ্গীত প্রশিক্ষক। রতন কুমার সরকারের দুই সন্তান লিখন ও ইশান। নতুন কুঁড়ি ২০২৫-এ নেত্রকোনার এডিসি মুনমুন জাহান লিজার মেয়ে আরিশা তানিন মাহা চূড়ান্ত পর্যায়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতে দ্বিতীয় হয়েছেন।



