নয়া দিগন্ত ডেস্ক
অপার সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড়ি অঞ্চলে মৌসুম বদলের সাথে সাথে বদলে যায় উপত্যকার রূপ। সাধারণত বরফের চাদর সরে গেলে উপত্যকার কিছু কিছু অংশে মাথা দোলায় রঙবেরঙের ফুল। উপত্যকাজুড়ে মাথা দোলায় রকমারি ফুলের দল। তবে এই বছর সেই ফুলের জলসায় নির্দিষ্ট সময়ের বেশ কিছুটা আগেই আগমন ঘটেছে এক অদ্ভুত প্রজাতির ফুলের।
হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় হিমালয়ের সুউচ্চ এলাকায় সগর্বে মাথা উঁচিয়ে জেগে উঠছে ‘সিকিম সুন্দরী’। সিকিমের সুন্দরী বলে পরিচিত হলেও এর দেখা মেলে উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তান থেকে শুরু করে পাকিস্তানের কিছু এলাকা, নেপাল, ভুটান এবং তিব্বত হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত।
চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মিটার উচ্চতায় ফোটে ফুলটি। পোশাকি নাম ‘সিকিম সুন্দরী’ হলেও বৈজ্ঞানিক নাম রিউম নোবাইল। ফুলটি দেখতে অনেকটা আকর্ষণীয় কোনো প্যাগোডার মতো। স্বচ্ছ আবরণ দিয়ে ঘেরা থাকে ফুলটি। স্থানীয়রা এটিকে চেনেন চুকা নামে। পাহাড়ের ধাপে ধাপে ফুটে ওঠা ফুলটিকে দেখলে মনে হবে কাচের স্বচ্ছ টাওয়ার, মাথা উঁচু করে জেগে রয়েছে। গাছটি প্রায় দুই মিটার লম্বা হয়ে একটি সুউচ্চ প্যাগোডার মতো কাঠামো তৈরি করে।
উদ্ভিদ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের সূত্র অনুসারে, এই উদ্ভিদের স্বচ্ছ, হালকা রঙের ব্র্যাক্টগুলো গোলাপি রঙের প্রান্তসহ দুর্গম পাহাড়ের ঢালের বিরুদ্ধে একটি উজ্জ্বল আলোর টাওয়ারের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। মাইলের পর মাইল উপত্যকাজুড়ে এটি দৃশ্যমান। এটি একটি অসাধারণ প্রজাতির বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ, যা সাধারণত ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেই জন্মায় এবং বড় হয়। বাইরের পর্দা স্বচ্ছ ব্র্যাক্ট দিয়ে তৈরি। ব্র্যাক্ট হলো গাছের পরিবর্তিত পাতা যা ফুলের সাথে যুক্ত থাকে, যেটি ফুলকে আলো জোগায়। এই রূপান্তরিত পাতাগুলো প্রাকৃতিক গ্রিনহাউজের কাজ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করে, তা হলো অতিবেগুনি রশ্মিকে বাধা দেয়া। সিকিম সুন্দরীর ছবি সমাজমাধ্যমে প্রায়শই শেয়ার করা হয় ‘প্যাগোডা ফুল’ বলে। ইন্টারনেট।



