ক্রীড়া প্রতিবেদক
চমৎকার সব গোল, নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফেরার ঘটনা, শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা আর অপ্রত্যাশিত ফলাফল- কী দারুণ এক বিশ্বকাপই না চলছে এবার। শুরু হয়েছে এই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণ এবং তিনটি দেশে যৌথ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপটি নিঃসন্দেহে এ পর্যন্ত আয়োজিত ২৩টি বিশ্বকাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় আসর।
তবে যে নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে খেলাগুলো শেষ হচ্ছে এতে অনেকের কাছেই এই বিশ্বকাপই সেরা। পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে এই টুর্নামেন্টটি অন্যগুলোর থেকে বেশ ভালো অবস্থানেই থাকবে।
মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯৬টি ম্যাচ শেষে দেখা গেছে ২৮০টি গোল; অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯২টি গোল হয়েছে। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে ৩২টি ম্যাচে ৯৫টি গোল হয়েছিল (গড় ২.৯৭), এরপর এটিই সর্বোচ্চ গড়।
তুলনামূলকভাবে দেখলে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৬৯টি, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ২.৬৪টি, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ২.৬৭টি এবং ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ২.২৭টি গোল হয়েছিল। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছে জার্মানি ও কুরাকাওয়ের মধ্যকার ম্যাচে (জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে জয়ী); এ ছাড়া আরো সাতটি ম্যাচে ছয়টি করে এবং ১৩টি ম্যাচে পাঁচটি করে গোল হয়েছে।
আক্রমণাত্মক ফুটবলের আরেকটি লক্ষণ হলো মোট গোলের ৭৪.৬ শতাংশই এসেছে ‘ওপেন প্লে’ বা স্বাভাবিক খেলার প্রবাহ থেকে; যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ হার। অন্য দিকে পেনাল্টি থেকে গোল হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন হার।
শেষ মুহূর্তের গোলের সংখ্যাও টুর্নামেন্টটিকে রোমাঞ্চকর করে তুলছে। ২৪টি নকআউট পর্বের ম্যাচের মধ্যে আটটিতে ৮৫ মিনিটের পর জয়সূচক গোল হয়েছে, যেখানে দুর্বল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে হারাতে আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়েছিল এবং চারটি ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউটে গড়িয়েছে।
বস্তুত মিসরের বিপক্ষে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলটি ছিল টুর্নামেন্টের দশম ৯০ মিনিটের জয়সূচক গোল, যা ইতোমধ্যেই একটি বিশ্বকাপ রেকর্ড। এবার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দুই দলই নকআউটের ম্যাচে শেষ সময়ে জিতেছিল। অবশ্য আসর থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বে ইরান ও মিসর ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল বাতিল; আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ম্যাচে ইনজুরি টাইমে দুই দলের দুই গোলই কপাল পোড়ায় ইরানের।
শুধু জুলাই মাসেই অন্তত তিনটি বিশ্বকাপ ক্লাসিক হয়েছে, যেখানে বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড যথাক্রমে সেনেগাল, মিসর ও মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয়লাভ করেছে।
বেলজিয়াম ও আর্জেন্টিনা উভয় দলই শেষ মুহূর্তে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় ছিনিয়ে এনেছে; যা ১৯৭০ সালের পর কোনো টুর্নামেন্টে এই প্রথমবার ঘটল। আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল মিসর আর বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ছিল সেনেগাল।
জারেল কোয়ানসাহ মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলার পরও এবং এরপর মেক্সিকোর কিংবদন্তিতুল্য আজতেকা স্টেডিয়ামের তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে ইংল্যান্ডের জয়টি আসে।
এই টুর্নামেন্টে আটটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে, যা একটি বিশ্বকাপ রেকর্ড। এখনো আরো খেলা বাকি আছে এবারের বিশ্বকাপের। হয়তো আরো কিছু ঘটনা ঘটতে পারে, জন্ম দিতে পারে নতুন নতুন আরো কিছু রেকর্ডেরও।



