আবুল কালাম আজাদবগুড়া অফিস
নবগঠিত দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন বগুড়ার (বসিক) প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কারা মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এরই মাঝে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রাক-প্রচারণা শুরু করেছেন। এ ক্ষেত্রে দেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি কারো নাম ঘোষণা না দিলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি এমআর ইসলাম স্বাধীনকে মনে করা হচ্ছে। অপর দিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হিসেবে মহানগরী সেক্রেটারি ও বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদের (আকসু) সাবেক জিএস আবু সাইদ মুহাম্মাদ আব্দুল মালেককে চূড়ান্ত করেছে। এ ছাড়া আর কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম এখনো আলোচনায় নেই। তবে ২১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৭টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রাক-প্রচারণাা চালাচ্ছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বগুড়া সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখের বেশি।
বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ২০ এপ্রিল দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরকালে দেড় শ বছরের পুরনো এই পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করে ফলক উন্মোচন করেন। এর আগে ২০০৬ সালে তার প্রচেষ্টায় বগুড়া পৌরসভার আয়তন ১৪ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬৮ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হয়। এরপর প্রায় দুই দশকে বিএনপি ক্ষমতায় না ফেরায় আর সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়নি।
এ দিকে স্থানীয় সরকার আইনের সর্বশেষ সংশোধনের ফলে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়ে আসন্ন নির্বাচনেই দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রতীক থাকবে না। সে হিসেবে বসিক নির্বাচনে মেয়র পদেও দলের মনোনয়ন নেই। তবে বিএনপির হাইকমান্ড ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে দলের একক প্রার্থী দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের জন্য থাকবে কঠোর শাস্তি।
এ কারণে বসিক নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও বর্তমান প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনকেই মেয়র প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। কারণ বগুড়াসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়াদের কেউ বড় ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা গুরুতর অপরাধ না করলে তারাই মেয়র প্রার্থী হবেন- এটা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, এখানে আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই শিরোধার্য। দল যাকে সমর্থন দেবে, নেতাকর্মীরা তার জন্য কাজ করবে।
অপর দিকে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগরীর সেক্রেটারি আবু সাইদ মুহাম্মাদ আব্দুল মালেককে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও প্রার্থী এবং দলের স্থানীয় নেতাদের তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে আ স ম আব্দুল মালেক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, আমিরে জামায়াত আমাকে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
উল্লেখ্য, বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ রাজনীতির কারণে ইতোপূর্বে জামায়াতে ইসলামী বিলুপ্ত বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে কখনো চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে প্রার্থী দেয়নি।



