কারখানার ছাদেই বিদ্যুৎকেন্দ্র

ইলেকট্রনিকস থেকে পোশাক, কাচ ও সিরামিক-শিল্পে বাড়ছে রুফটপ সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলেও উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে না- অন্তত যেসব কারখানা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে। দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং, গ্যাস-সঙ্কট এবং জেনারেটর-নির্ভর বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয় শিল্পকারখানাগুলোকে ক্রমেই নিজেদের ছাদকে ছোটখাটো বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিণত করতে বাধ্য করছে।

একসময় রুফটপ সৌরবিদ্যুতের প্রধান আকর্ষণ ছিল বিদ্যুৎ বিল কমানো কিংবা বিদেশী ক্রেতাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর শর্ত পূরণ করা। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়- জ্বালানি নিরাপত্তা। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ না থাকলেও দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রেখে কারখানার উৎপাদন সচল রাখছেন উদ্যোক্তারা।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের শিল্পকারখানায় ইতোমধ্যে ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হয়েছে। এর বড় অংশ রয়েছে রফতানিমুখী পোশাক কারখানায়। তবে ইলেকট্রনিকস, ইস্পাত, কাচ, সিরামিক, বস্ত্রসহ বিভিন্ন শিল্পেও দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। গত দুই বছরে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হওয়ার পর বড় বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের প্রবণতা বিশেষভাবে বেড়েছে।

ওয়ালটনে ৩২ মেগাওয়াট

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ওয়ালটনের বিভিন্ন কারখানায় বর্তমানে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে।

ওয়ালটন গ্রুপের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো: নজমুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই আরো ২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হবে। এর ফলে বছরের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে। তার তথ্য অনুযায়ী, এসব সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বছরে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ প্রায় চার টাকা ২০ পয়সা, যা প্রচলিত জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

লোডশেডিংয়ের সময়ই এ বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা গেলে গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমে এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে ডিজেল বা গ্যাসচালিত জেনারেটর চালানোর প্রয়োজনও কমে আসে। তবে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) যুক্ত থাকলে সূর্য ডোবার পরও সৌরবিদ্যুতের সুবিধা নেয়া যায়।

সৌরবিদ্যুতে সচল উৎপাদন

নরসিংদীর ঘোড়াশালে আকিজ-বশির গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জনতা জুট মিলস প্রায় ২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। এর সাথে রয়েছে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা। ফলে সূর্যাস্তের পরও সঞ্চিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। ২০২৩ সালে এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন শুরু হয়। এতে চীনের ট্রিনা সোলার প্যানেল ও হুয়াওয়ের ইনভার্টার ব্যবহার করা হয়েছে।

আকিজ-বশির গ্রুপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হুসাইন মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে লোডশেডিংয়ের বিড়ম্বনা অনেকটাই কমেছে এবং তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

হবিগঞ্জে আকিজ গ্লাস কারখানায় আরো ১৩ মেগাওয়াটের রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে গ্রুপটি। এর সাথে রয়েছে ৮ মেগাওয়াটের ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা।

আল আমিন বলেন, ব্যাটারি ব্যবস্থা থাকা কারখানাগুলোতে লোডশেডিং হলেও প্রায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

পার্টিকেল বোর্ড, সিরামিক, কাচসহ বিভিন্ন কারখানা মিলিয়ে আকিজ-বশির গ্রুপের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন প্রায় ৯০ মেগাওয়াট। আরো ৫০ মেগাওয়াট যুক্ত করার কাজ চলছে। আগামী দুই বছরে আরো ৭৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্রুপটির কারখানাগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় এক হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ হচ্ছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটে বড় ভরসা

বিদ্যুৎ ও গ্যাস- দুই সঙ্কটই শিল্পকারখানার উৎপাদনকে চাপে ফেলায় সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ১৮টি শিল্পপার্কে কয়েক ডজন কারখানা রয়েছে। প্রায় দেড় লাখ কর্মী নিয়োজিত এই গ্রুপ তাদের ২০টি কারখানায় মোট প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং ও গ্যাস-সঙ্কটের কারণে কয়েকটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে যেসব কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।

বর্তমানে গ্রুপটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৫-১৬ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার শতভাগ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণের লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সঙ্কট থেকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত

কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের শুরুটা হয়েছিল জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলার তাগিদে; কিন্তু সময়ের সাথে এটি পরিণত হয়েছে সরাসরি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে।

রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান বলেন, ২০১৯ সালে গ্যাস-সঙ্কট মোকাবেলায় অনেকটা বাধ্য হয়েই কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্য কারখানাগুলোতে ব্যবসায়িক বিবেচনায় সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। কারণ সৌরবিদ্যুতের খরচ গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

বর্তমানে গ্রুপটির ছয়টি কারখানায় মোট ১৪ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ রয়েছে। দু’টি পোশাক কারখানায় মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া যাচ্ছে। দু’টি স্পিনিং মিলে এ হার প্রায় ১৫ শতাংশ।

সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সুবিধাও এখন শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের দাম সংযোগের ধরন অনুযায়ী প্রতি ইউনিট প্রায় ১২ টাকা ৭৩ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৮৫ পয়সা। রাতের পিক আওয়ারে কার্যকর ব্যয় প্রায় ১৬ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে। অন্য দিকে প্রকল্প, অর্থায়ন ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে রুফটপ সৌরবিদ্যুতের প্রতি ইউনিট ব্যয় সাধারণত চার থেকে আাট টাকার মধ্যে।

এ দিকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ব্যয়ও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

সুপার স্টার রিনিউএবল এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর আগে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এখন একই ক্ষমতার প্রকল্পে খরচ হচ্ছে প্রায় তিন কোটি টাকা।

তার প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ৯০টি শিল্পকারখানায় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত ক্ষমতা প্রায় ১০০ মেগাওয়াট। আরো ১০টির বেশি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন, যার মাধ্যমে প্রায় ২০ মেগাওয়াট নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওমেরা সোলার ২০২১ সাল থেকে প্রায় ১০০টি শিল্পকারখানায় ১৩০-১৪০ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। আরো ১২টি কারখানায় ২০ মেগাওয়াটের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওমেরা সোলারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহিম বলেন, গত দুই বছরে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হওয়ার সাথে সাথে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের গতি বেড়েছে। একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল সাধারণত ২০-২৫ বছর। প্রাথমিক বিনিয়োগের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া বড় ধরনের ব্যয় খুব বেশি নেই।

শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ছাদে বাড়ছে সৌরবিদ্যুৎ

দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আবুল খায়ের স্টিল, হা-মীম গ্রুপ, বিএসআরএম, ইয়াংওয়ান গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যাসিফিক জিন্স, টিম গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, রাইজিং গ্রুপ, উর্মি গ্রুপ, মাইক্রোফাইবার গ্রুপ, পলমাল গ্রুপ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, কর্ণফুলী স্যুজ ও মাসকো গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে বা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

ডিবিএল গ্রুপের সাতটি পোশাক ও বস্ত্র কারখানায় ৫ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ রয়েছে। আরো ১০টি পোশাক ও সিরামিক কারখানায় ১৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার বলেন, বিভিন্ন কারখানায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য বিদেশী ক্রেতাদের চাপ- দুই কারণেই দ্রুত সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) ইতোমধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৪ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। এতে গ্রুপটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আরো ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এমজিআইয়ের পরিচালক তানভীর মোস্তফা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই তাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। শুধু কারখানার ছাদ নয়, ভবনের দেয়াল, সীমানাপ্রাচীর ও সড়ক বিভাজকেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিবেশের চেয়ে এখন বড় প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তা

শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছে সৌরবিদ্যুতের পরিবেশগত সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিক আকর্ষণ অন্য জায়গায়- গ্রিডে বিদ্যুৎ না থাকলেও কারখানা সচল রাখা।

অধিকাংশ শিল্পকারখানার পুরো বিদ্যুৎ চাহিদা রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে কয়েক ঘণ্টার নিজস্ব বিদ্যুৎও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। একই সাথে জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা এবং জ্বালানি ব্যয় কমে।

অর্থাৎ শিল্পে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ এখন আর কেবল সবুজ জ্বালানির প্রকল্প নয়; এটি ক্রমেই উৎপাদন অব্যাহত রাখার কৌশল ও জ্বালানি নিরাপত্তার হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

উদ্বৃত্ত বিদ্যুতে সরকারের নতুন প্রণোদনা

রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারও নতুন প্রণোদনা দিয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর জারি করা গেজেট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নেট মিটারিং গাইডলাইনের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী গ্রাহকরা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ব্যাটারি সংযুক্ত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট আট টাকা হিসেবে ধরা হয়েছে। এর সাথে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

এই সুবিধা শিল্পকারখানাগুলোকে নিজেদের প্রয়োজনের তুলনায় বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ তখন জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করা সম্ভব হবে।

তবে প্রতিদিন বিদ্যুৎ-সঙ্কটে উৎপাদন ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা শিল্পকারখানার জন্য সবচেয়ে বড় প্রণোদনাটি ইতোমধ্যে দৃশ্যমান- গ্রিড অন্ধকার হয়ে গেলেও সৌরবিদ্যুতের আলোয় কারখানার মেশিন সচল রাখা যায়।