কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টানা অতিবৃষ্টিতে অন্তত পাঁচ শতাধিক সবজিচাষি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বর্ষাকালীন করলা, শসা, ঝিঙে, ধুন্দল, লাউ, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে ও গোড়া পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সবজি উৎপাদন এলাকা।
কলাপাড়ার ঘুটাবাছা গ্রামের কৃষক মিলন তালুকদার (৫৫) জানান, ধান চাষের পাশাপাশি তিনি সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করেন। চলতি মৌসুমে ছয় বিঘা জমিতে আগাম বর্ষাকালীন সবজি চাষ করেছিলেন, যার মধ্যে করলার আবাদই ছিল বেশি। জুনের মাঝামাঝি থেকে সপ্তাহে ৪০-৪৫ মণ করলা বিক্রি শুরু করেছিলেন। কিন্তু জুলাইয়ের শুরু থেকে টানা ১৪-১৫ দিনের বৃষ্টিতে ফলনধরা গাছগুলো পচে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্তত তিন লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা থাকলেও এখন শসা, ঝিঙে, ধুন্দল ও লাউয়ের ক্ষেতও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
মিলন তালুকদারের দাবি, তার গ্রামের পাশাপাশি নাওভাঙা গ্রামের জাকির ফকিরসহ অর্ধশতাধিক কৃষক একই ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। প্রতি বছর এ মৌসুমে এসব কৃষক গড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার সবজি বিক্রি করলেও এবার অধিকাংশই উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি।
একই চিত্র উপজেলার সবজি উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র কুমিরমারা গ্রামেও। স্থানীয় কৃষক সুলতান গাজী জানান, প্রতিবছর এ মৌসুমে সবজি বিক্রি করে কৃষকরা গড়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ করতেন। এবার উল্টো একই পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকের বীজ কেনার খরচও ওঠেনি। আজিজ হাওলাদার, মজিবর গাজী, শহিদুল জমাদ্দার, আলতাফ গাজী, মাসুম চৌধুরী, মুসা কাজী, মামুন হাওলাদার ও জহিরুলসহ গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ সবজি চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কুমিরমারা ছাড়াও পূর্ব সোনাতলা, এলেমপুর, মজিদপুর, পাখিমারা ও নাওভাঙা গ্রামের শত শত একর জমির সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলনধরা গাছ বিবর্ণ হয়ে কুঁকড়ে গেছে, অনেক ক্ষেতেই সবজি পচে গেছে।
এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারের পাইকারি সবজি আড়তগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। ‘আল্লাহ ভরসা’ আড়তের মালিক নজরুল কাজী জানান, মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ মণ করলা এবং আরো কয়েকশ’ মণ শসা ও ঝিঙে আড়তে আসত। বর্তমানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মণের বেশি সবজি আসছে না। তার মতে, অতিবৃষ্টিতে অন্তত পাঁচ শতাধিক সবজিচাষি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, কলাপাড়ায় উৎপাদিত সবজির প্রায় ৮০ শতাংশই নীলগঞ্জ ইউনিয়নে চাষ হয়। চলতি মৌসুমে শুধু করলারই প্রায় ২৫০ একর জমির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। একইসাথে শসা, ঝিঙে ও অন্যান্য বর্ষাকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, টানা বৃষ্টিতে গাছের গোড়ায় পচন ধরে ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।



