নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ একাংশ

হাসিনা পালানোর ১৫ মাস পরেও বগুড়া চেম্বারের নির্বাচন হয়নি

Printed Edition

বগুড়া অফিস

ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ইশারায় জাতীয় নির্বাচনের আগে চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে । বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মেজাবাউল করিম চেম্বারের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে পাতানো নির্বাচনে চেম্বার দখলে রেখেছিলেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মরহুম মমতাজ উদ্দিন এবং তার ছেলে মাসুদুর রহমান মিলন। তারা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সদস্য পদ না দিয়ে ব্যবসায়ী নন এমন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সদস্য পদ দিয়ে তাদের নিয়ে পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করতেন। সেই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী দেখিয়ে নিজেরা পদ ভাগাভাগি করতেন। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা চেম্বারের নেতৃত্বে যেতে পারতেন না। এভাবে দীর্ঘ ১৭ বছর সভাপতি ছিলেন মমতাজ উদ্দিন ও তার ছেলে মাসুদুর রহমান মিলন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পর তার দোসর বিসিসিআইর তৎকালীন সভাপতি মাছুদার রহমান মিলনও পালিয়ে যান । এ সময় তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। এরপর সাবেক বিএনপি নেতা ও মিলনের কমিটির সহসভাপতি মো: সাইরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নেন। কিন্তু নির্বাচনের দাবিতে ব্যবসায়ীরা সোচ্চার হলে তিনি ২১ জুন তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেন তিনি । এর পরদিনই একটি পক্ষ চেম্বার ভবনে তালা দিলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিমকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেন। এ লক্ষ্যে গত ২১ জুন তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও গঠন করা হয়। তবে তারা কোনো তফসিল ঘোষণা করেনি।

এ ব্যাপারে বগুড়া চেম্বারের প্রশাসক মো: মেজবাউল করিম বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজার পরামর্শে জাতীয় নির্বাচনের আগে যেন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে না। একইভাবে দেশের কয়েকটি জেলা চেম্বারের নির্বাচন বন্ধ রয়েছে।