তানজিদ-শান্তর ব্যাটিংয়ে দাপুটে দিন বাংলাদেশের

Printed Edition
হাফ সেঞ্চুরি কারার পর  ব্যাট উচিয়ে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন শান্ত   : ক্রিকইনফো
হাফ সেঞ্চুরি কারার পর ব্যাট উচিয়ে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন শান্ত : ক্রিকইনফো

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। ডারউইনের প্রথম টেস্টে খেলতে নেমে শুরু থেকেই চমক দেখাচ্ছে টাইগাররা। স্বাগতিকদের চাপে রেখে এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত বাহিনী। প্রথম ইনিংসে অসিদের মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ব্যাট হাতে দুর্দান্ত জবাব বাংলাদেশের। দ্বিতীয় দিনে দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে ব্যাটাররা। ওপেনার তানজিদ হাসান খেলেছেন ইতিহাসগড়া ১০১ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশী ব্যাটারের এটিই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। অধিনায়ক শান্তর ৮৪ ও মুমিনুল হকের ৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে শক্ত অবস্থানে টাইগাররা। দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে ইতোমধ্যে স্বাগতিকদের চেয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। ৭৩ বলে ৩২ রান নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ও অপর প্রান্তে ৭৬ বলে ১৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে ছিলেন হাসান মাহমুদ।

ডারউইনে অবশ্য দিনের শেষ ডেলিভারিতে মিরাজকে আউট করার সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু গালিতে ওঠা ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। তবে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনটিও ছিল বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক জয় রয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে অসিদের ২০ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার অসিদের মাটিতে এমন দু’টি দিন পার করায় জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারেন টাইগাররা।

মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে লিডের ভিত রচনা করেন তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা ওপেনার নাম লেখান ইতিহাসে। অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান তিনি। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার তানজিদ ও মুমিনুল হক ভালো শুরু করেন নতুন দিনেও। প্রথম ঘণ্টা নির্বিঘেœ কাটিয়ে দেন দু’জন। তবে প্রথম পানি পানের বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে ১০২ রানের জুটি। হ্যাজেলউডের বেশ বাইরের বলে ড্রাইভ করার লোভ সামলাতে পারেননি মুমিনুল হক। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ক্যারির হাতে। ১ রানের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ফিফটি পেলেন না এই টপঅর্ডার ব্যাটার।

একটু পরই নাথান লায়নের বলে স্লিপে তানজিদের কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি স্মিথ। ৬২ রানে জীবন পাওয়ার পর আর তেমন ভুল করেননি তানজিদ। লাঞ্চের একটু পর লিড পেয়ে যায় বাংলাদেশ। শান্তকে নিয়ে তানজিদের ব্যাটের দাপট চলতে থাকে। তানজিদের রান যখন ৯৯, শান্তর তখন ৪৯। আগে মাইলফলকে পা রাখেন অধিনায়ক। ৭৪ বলে আসে তার ফিফটি। তিন বল পরই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। লায়নের বল মিড অফে ঠেলে শতরানের উচ্ছ্বাসে লাফিয়ে ওঠেন তানজিদ।

সেঞ্চুরি ছুঁয়ে নির্ভার তানজিদ মনোযোগ হারিয়ে লায়নকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় লং অফে মিচেল স্টার্কের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৯৩ রানের জুটি থামার পর আরেকটি ভালো জুটি গড়ে তোলেন শান্ত ও মুশফিক। টেস্ট অভিষেকের ২৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম খেলতে নেমে মুশফিক শুরু করেন দারুণ সাবলীল ব্যাটিংয়ে। জুটি জমে ওঠে দ্রুতই। সেঞ্চুরির হাতছানিতে এগিয়ে যান শান্ত। তবে চা বিরতির দুই ওভার পর নতুন বল পেয়ে ম্যাচের দুই দিনে সেরা সুযোগ আসে অস্ট্রেলিয়ার। হ্যাজেলউডের বল শান্তর ব্যাটে লেগে সরাসরি স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা স্মিথের তালুবন্দী হয়। ১২৬ বলে ৮৪ রান করা শান্তর বিদায়ে জুটি থামে ৬৬ রানের।

কিছুক্ষণের মধ্যে স্মিথ আরো দু’টি ক্যাচ নিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে পাঠান বাংলাদেশকে। স্টার্কের অনেক বাইরের বল তাড়া করে প্রথমে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন লিটন দাস। পরের ওভারে কামিন্সের বলে ব্যাট পেতে দিয়ে আউট হন ৩৬ রান করা মুশফিক।

বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিংয়ের যা চিত্র, তাতে ইনিংস দ্রুত শেষের শঙ্কাও জেগে উঠেছিল। কিন্তু তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামের আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ব্যাট হাতে চমকে দেন হাসান মাহমুদ। আগের দিন ছয় উইকেট শিকারি পেসার এবার হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর ব্যাটার। প্রস্তুতি ম্যাচে শতরান করা আত্মবিশ্বাসী মিরাজও করেন দারুণ ব্যাটিং। ৭৬০ বল খেলে তাকে টেস্ট ক্রিকেটারের মতো যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যান হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত বোলিং আক্রমণে চিড় ধরাতে পারেনি তার রক্ষণে। দিন শেষে মেহেদী-মাহমুদ গড়েন ১৪৭ বলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস : ১৯৮/১০।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৩৫১/৬ (১১০ ওভার) (আগের দিন ৯৬/১) তানজিদ ১০১, মুমিনুল ৪৯, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, লিটন ০, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজেলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০, লিয়ন ১/৯২।