ক্ষতিপূরণ নয়, সন্তান হত্যার বিচার চান শহীদ রাকিবের মা

২৪ জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ী হত্যাযজ্ঞ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলেও যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল রাকিবের পরিবারে বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা ও শোক কাটেনি। আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং ন্যায়বিচার ও ‘শহীদ সন্তানের মা’ পরিচয়টুকুই এখন এই মায়ের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল ও প্রতিদিনের লড়াই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ২টার পর যাত্রাবাড়ী-কুতুবখালী এলাকায় আন্দোলনের সময় সম্মুখভাগে থাকা রাকিবের বুকে পুলিশের গুলি লাগে। বুলেটটি পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন রাকিব। ১৯ জুলাই তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হলেও তিনি সেফটিপিন দিয়ে তালা খুলে রাজপথে নেমে যান। ‘মরলে মরছি, বাঁচলে বাঁচছি’- এমন অকুতোভয় মনোভাব নিয়ে সবসময় সামনের সারিতে থাকতেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের পর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গিয়ে মায়ের সেই আকুলতার কথা আজও ভুলতে পারেন না রাকিবের বড় ভাই আমিন হোসেন। তিনি জানান, থানায় যাওয়ার আগে তার মা বারবার বলছিলেন, ‘যেই থানার পুলিশ আমার ছেলেকে হত্যা করল, সেই থানায় গিয়ে মামলা করলে বিচার কি পাব?’ ছেলের শহীদ হওয়ার স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেঁদে অবশেষে ন্যায়বিচারের আশায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

রাকিবের মৃত্যুর পর সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তার কোনো অংশই পরিবারটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করেনি। মায়ের ইচ্ছায় এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে এবং বাকি অংশ বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করা হয়েছে।

তবে পরিবারের সঙ্কটের এখানেই শেষ নয়। বড় ভাই আমিন হোসেন অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের কিছুদিন পর তিনি নিজেও দুর্বৃত্তদের হয়রানির শিকার হন। তাকে অচেতন করে তার অটোরিকশা, মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা বা আশানুরূপ অগ্রগতি মেলেনি, উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে তার দাবি।

বিচারের বাণী যখন নিভৃতে কাঁদে, তখন ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা রাকিবের ছবিটির দিকে তাকিয়ে ন্যায়বিচারের দিন গোনেন এক বৃদ্ধা মা। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এই পরিবারের কাছে সময় যেন থমকে আছে ২০২৪ সালের সেই রক্তাক্ত জুলাইয়েই।