রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু : মারমারিতে আহত ৩

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হার্টে রিং পরানোর সময় এক রোগীর মৃত্যুতে লংকাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় মারামারিতে আহত হয়েছেন তিনজন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাতভর এ উত্তেজনা শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছিল।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে হাসপাতালটিতে বুকে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মোকছেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রোগীর হার্টে রিং পরানোর পরামর্শ দেয় চিকিৎসক। রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় পরিবারের একজনের স্বাক্ষর নিয়ে অপারেশন করার সময় মারা যান মোকছেদুল। এতে স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে স্বজনদের সাথে বচসা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, এক পর্যায়ে হাসপাতালের লোকজন হামলা চালায়। এতে রোগীর ছেলে শাফিউল ইসলাম, শ্যালক হুমায়ুন কবির ও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিয়ন আহত হন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ব¦বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন। পুলিশ এসে গভীর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোগীর ছেলে শাফিউল ইসলাম জানান, ভুল চিকিৎসা এবং কালক্ষেপণের কারণেই বাবার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টির ব্যাখ্যা চাইতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। হাসপাতালের লোকজন রড দিয়ে আঘাত করে এবং আমাদের বের করার চেষ্টা করে হাসপাতালের নিযুক্ত সন্ত্রাসীরা।

পরে এক সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: আসমাউল রিজাল। তিনি দাবি করেন, তিনি ৬ নভেম্বর বিকেল থেকে তার পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়। যেহেতু রেডিওগ্রাম পরীক্ষানিরীক্ষা ব্যয়বহুল ও জটিল। পরীক্ষা চলমান অবস্থায় তার কার্ডিয়াক এটাক হয়। এ প্রেক্ষিতে তাকে ওইদিন ৪টা ৪৫ মিনিটে আইসিইউতে নেয়া হয়। নেয়ার সময় নিয়মানুয়ায়ী তার ছেলের কাছে সম্মতি সই নেয়া হয়। এ ক্যাথলাবে অনেক সফলতা আছে। কিন্তু তার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছে। এটা মেডিক্যাল হ্যাজার্ট। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়নি।

ডা: আসমাউল রিজালের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর খবর জানানো হলে, স্বজনদের আচরণগত পরিবর্তন হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ সেখান থেকে লাইভে চলে যান এবং অভিযোগ আনেন এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। এ নিয়ে সেখানে একটা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির তৈরি হয়। আমরা বারবার সেখানে স্বজনদের বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তারা বুঝতে চান না এবং অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির তৈরি হয়। আইসিইউতে যেহেতু অনেক ক্রিটিক্যাল প্যাসেন্ট থাকে। সে কারণে আমরা তাদের বারবার বলি করিডোরে গিয়ে আমরা সব প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই; কিন্তু আমরা তাদের সহযোগিতা দিতে চাইলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি।

এদিকে এ ঘটনা প্রসঙ্গে হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক মিরাজুল মহসিন জানান, স্বজনরা দল বেঁধে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে। সমস্ত ডকুমেন্ট আছে হাসপাতালে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা: শাহীন সুলতানা জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।