অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা
বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে হাওর। এর মধ্যেই কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পানির নিচ থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের বাঘাইয়া গোনার হাওরে পন্টুনে বসানো ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাল্কহেডে তুলে বিভিন্ন এলাকার ইটভাটায় পাঠানো হচ্ছে। এতে হাওরের কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের জলরাশির মধ্যে পন্টুনে বসানো এক্সকাভেটর দিয়ে অনবরত মাটি কাটা হচ্ছে। উত্তোলিত মাটি পাশে নোঙর করা বাল্কহেডে লোড করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে স্থলপথে মাটি পাচার করা হলেও বর্ষায় নৌপথকে কাজে লাগিয়ে মাটি পাচার আরো নির্বিঘেœ করা হচ্ছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৫ ধারা অনুযায়ী, কৃষিজমি বা জলাশয় থেকে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে মাটি কাটা নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয়। তারপরও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন ও পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কৃষকদের ভাষ্য, হাওরের তলদেশ ও কৃষিজমির উর্বর পলি কেটে নেয়ায় জমির স্বাভাবিক গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে গভীর গর্ত। এতে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। একই সাথে অনিয়ন্ত্রিত খননে মাছের বিচরণক্ষেত্র ও হাওরের জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাওরের কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



