নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী জেলা কারাগারের নির্মাণকাজ শেষ না করেই প্রায় ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কাজ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে কারাগারটির নির্মাণ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় প্রায় ২০ একর জমিতে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয় প্রায় তিন বছর আগে। টেন্ডারের মাধ্যমে ৬৭ কোটি টাকার কাজ পায় বিশ্বাস ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছে। তবে গণপূর্ত বিভাগের পরিদর্শনে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সে হিসেবে কাজ না করেই অতিরিক্ত প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিল নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কাজের অগ্রগতির সাথে বিলের সামঞ্জস্য না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরও বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স দুই বছরের জন্য বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় নতুন কারাগারটি কবে চালু করা যাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নরসিংদী জেলা কারাগারের বর্তমান ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০০ জন। সেখানে বন্দী রয়েছেন প্রায় এক হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া সামান্য বৃষ্টিতেই কারাগারের একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। নতুন কারাগার দ্রুত চালু করা না গেলে অতিরিক্ত বন্দীর চাপ আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুছার সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশের কারণে কাজের তুলনায় বেশি বিল দেয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুছা বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা তিনি জানান।
গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নির্মাণকাজের পরিমাণ, উত্তোলিত বিল ও প্রকল্পের অগ্রগতি যাচাই করে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। একইসাথে কারাগার নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে কাজের মান ও অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতার বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
কারাগারটি দ্রুত নির্মাণ শেষ না হলে অতিরিক্ত বন্দীর চাপ সামাল দেয়া এবং বর্তমান কারাগারের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



