ঢাকা-১৮ এ উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের

সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পিত নগরায়ণের দিকে জোর দেবো

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
Printed Edition
ঢাকা-১৮ এ উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি  বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের
ঢাকা-১৮ এ উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের

ঢাকা-১৮ জাতীয় সংসদের ১৯১ নম্বর আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা, ক্যান্টনমেন্ট ও গুলশান থানার অন্তর্গত। এ আসনটি ০১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

২০০১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর এলাকায় সাতটি নতুন আসন যুক্ত হয়। ফলে রাজধানীতে সংসদীয় আসনের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২০টিতে। এই পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমেই ঢাকা-১৮ আসনের সৃষ্টি।

আসনটি সৃষ্টির পর এ পর্যন্ত চারবার আওয়ামী লীগ এবং একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি আবারো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন- নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আরিফুল ইসলামসহ আরো সাতজন প্রার্থী।

নির্বাচন ও এলাকার নানা বিষয় নিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তের সাথে কথা বলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর।

নয়া দিগন্ত : আপনার এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো কী?

এস এম জাহাঙ্গীর : আমার এলাকার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্যাস সঙ্কট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট। এ ছাড়া এ এলাকায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠছে, ফলে জনবসতি দ্রুত বাড়ছে। এই বর্ধিত জনসংখ্যার সাথে সমন্বয় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পিত নগরায়ণের দিকে জোর দেবো।

নয়া দিগন্ত : যানজট নিরসনে আপনি কী উদ্যোগ নেবেন?

এস এম জাহাঙ্গীর : রাজধানীতে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করার কারণে সড়কের প্রশস্ততা কমে গিয়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে যানজট নিরসনে কাজ করব। পাশাপাশি ফুটপাথ দখল করে বসা ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবো।

নয়া দিগন্ত : এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?

এস এম জাহাঙ্গীর : গত ১৭ বছরে আমার নির্বাচনী এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচিত হলে এলাকাকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

নয়া দিগন্ত : এলাকার যুবকদের জন্য আপনার বার্তা কী?

এস এম জাহাঙ্গীর : যুবসমাজকে আহ্বান জানাবো- মাদক, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অপরাধ থেকে দূরে থাকতে হবে। একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

নয়া দিগন্ত : শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?

এস এম জাহাঙ্গীর : সংক্ষেপে বলতে চাই- এই এলাকাকে একটি শিক্ষাবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে আমি কাজ করব।

নয়া দিগন্ত : কেমন নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন?

এস এম জাহাঙ্গীর : আমি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করি। দীর্ঘ দিন ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের হারানো অধিকার ফিরে পাবে বলে আশা করি। তবে একটি পক্ষ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে- এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নয়া দিগন্ত : জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?

এস এম জাহাঙ্গীর : ২০১৮ সালেও আমি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এখানকার মানুষ আমাকে বহু আগেই গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে আমি এই এলাকার মানুষের সাথে কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

উল্লেখ্য, ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার তিন লাখ ১৩ হাজার ৫০ জন, নারী ভোটার তিন লাখ ৮২৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ছয়জন।