চট্টগ্রাম বুরো
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত শিশু ইরা মনি হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এই রায় ঘোষণা করেন। প্রায় চার মাসের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করে রায় দেয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত বাবু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দীর ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী বাবু শেখ। পরে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি ঘটনাটি প্রকাশ করে দেয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে পালিয়ে যায় আসামি। পরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।
ঘটনার পর ইরার মা সীতাকুণ্ড থানায় হত্যামামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ বাবু শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত গত ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এরপর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। অনিবার্য কারণে নির্ধারিত দিন থেকে পিছিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ঘটনার পরদিন পুলিশ সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেফতার করে।
তদন্তে উঠে আসে, শিশুটির পরিবারের সাথে পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়।



