চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার ঘটনায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

Printed Edition
চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার ঘটনায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার ঘটনায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরে শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ কেটে ছয় টুকরা করার লোমহর্ষক মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে প্রধান আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুমের অপরাধে তাকে আরো পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

গতকাল চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ বছরের আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় সে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় ভাড়া থাকত।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জালাল উদ্দিন জানান, শিশুটিকে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং লাশ টুকরা টুকরা করে গুমের অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকেলে নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার চার বছর ১১ মাস বয়সী মেয়ে আলীনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলে ঘটনার ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের পর ২৪ নভেম্বর আয়াত হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী তরুণ আবির আলীকে গ্রেফতার করে পিবিআই। ২৫ নভেম্বর আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দেয় আবির।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে নালাসংলগ্ন স্লুইচগেট এলাকা থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে ৬ ডিসেম্বর আবিরের সহযোগী এক কিশোরকেও গ্রেফতার করা হয়।