কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের খবরে সাধারণ মানুষ নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠছেন। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: খায়রুল হাসান ‘আধুনিক কালীগঞ্জ’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
জুলাই বিপ্লবের পর থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা কালীগঞ্জে সংগঠনটিকে পুনর্গঠন, সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ড, মতবিনিময় সভা এবং ঘরে ঘরে প্রচারের মাধ্যমে তরুণ ভোটারসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে সাম্যের বার্তা পৌঁছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
গাজীপুর-৫ আসনে ইসলামী সমমনা জোটের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমির মো: খায়রুল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রুহুল আমীন কাসেমী। স্থানীয় ভোটারদের মতে, জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে আছেন খায়রুল হাসান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। তবে সমমনা জোট থেকে জামায়াত ব্যতীত অন্য কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত হলে বিএনপি প্রার্থীর জয়েরই সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন অনেক ভোটার। উপজেলা নির্বাচন অফিসের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা অনুযায়ী এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন এবং ভোটকেন্দ্র ১২৪টি।
এক সাক্ষাৎকারে মো: খায়রুল হাসান বলেন, জুলাই বিপ্লবের আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনের সময় মামলা-হামলার ঝুঁকি নিয়েও তিনি রাজপথে ছিলেন এবং দুঃসময়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। ছাত্র, যুবক, আলেম, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই তার রাজনৈতিক শক্তি।



