কক্সবাজার অফিস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে ধারণাপ্রসূত পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই নতুন করে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার সীমানা ঠিক হবে। তিনি বলেন, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে ৩০০ বা ৫০০ মিটারের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কোনো জরিপ বা তথ্য ব্যতিরেকে ইচ্ছাকৃতভাবে যে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে করে সারা বিশ্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন এরিয়ার কোনো বিকাশ হয়নি। এটা যাতে বিকশিত না হতে পারে সে জন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না জানি না, তবে সেই বাধা আমরা দূর করে কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ট্যুরিজম হাব’ বা পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই । এই লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে এবং আগামী ডিসেম্বরের আগেই এই মাস্টার প্ল্যান অনুমোদন পাবে। তবে উন্নয়নের নামে সমুদ্রসৈকত এলাকায় ‘কংক্রিটের জঙ্গল’ গড়ে তোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প ‘স্বপ্নচূড়া’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে কোনো ধরনের তথ্য-উপাত্ত ও জরিপ ছাড়াই মেরিন ড্রাইভসহ পর্যটন এলাকার বিস্তীর্ণ অংশকে ‘ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর ফলে এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি থমকে যায়। বর্তমান সরকার এসব অবৈজ্ঞানিক বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক পর্যটন বিকাশের সুযোগ উন্মুক্ত করবে। অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃতিকে বিনষ্ট করে কেবল উঁচু ভবন আর কংক্রিটের জঙ্গল বানালে তা পর্যটনের জন্য হিতে বিপরীত হবে। এর পরিবর্তে সিঙ্গাপুরের মতো আন্তর্জাতিক মানের ইকো-রিসোর্ট, ন্যাচারাল পার্ক এবং দুলাহাজারার আদলে সাফারি পার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক মানের সৈকত ও ব্লু-ইকোনমি আটলান্টিক সিটি ও পাতায়া বিচের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সৈকতজুড়ে কাঠের ওয়াকওয়ে, সমুদ্রের ভেতরে পিয়ার্স বা জেটি এবং হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্মের মতো বিশ্বমানের সুবিধা যুক্ত করা হবে। পর্যটন কেবল লাবনী বা ইনানী পয়েন্টে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই পর্যটনবান্ধব কর্মকাণ্ড প্রসারিত করা হবে। পাশাপাশি, দেশের ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা সুনীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কক্সবাজারকে ঘিরে একটি মেরিন সায়েন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানসহ সামুদ্রিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে বলে সরকার আশাবাদী।
অপর দিকে মন্ত্রী গতকাল দুপুরে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই এসব গ্রহণ করবে না। তিনি বলেন, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ মানুষ কখনো দেবে না। তিনি আরো বলেন, তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে। তবে আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো: মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মো: আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ সাবের, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব সানজিদা বেগমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



