মুহাম্মদ কাইসার হামিদ কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সরকারি রাস্তা ও জায়গা থেকে মূল্যবান গাছ কাটার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। গত প্রায় ৯ মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন কয়েকটি ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়সারা অভিযোগ দেয়া হলেও প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
গত ১৯ আগস্ট উপজেলার আগরপুর-ভাগলপুর সড়কের রামদী বড়চর ফিডমিলসংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি সরকারি গাছ কাটার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। সরেজমিনে সেখানে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখা যায়। গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জানান, পার্শ্ববর্তী মনোহরপুর গ্রামের শহিদুল তাদের গাছ কাটতে পাঠিয়েছেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে গাছ কাটা ও সরিয়ে নেয়া বন্ধ করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাছে সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে ২০-২৫টি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, গাছগুলোর মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। তবে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিনা, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ১৫ জানুয়ারি নাছিমা আক্তার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির অভিযোগ থানায় দেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। পরে ২৪ থেকে ২৬ জুলাই একই স্থান থেকে আরো তিনটি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা এ ঘটনার ভিডিও প্রশাসনকে দিলেও ২৬ জুলাই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ দেয়া হয়। ভিডিওতে ‘মাসুদ’ নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে গাছ কাটার কথা শ্রমিকদের বলতে শোনা গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।



