ইনফান্তিনো ইস্যুতে বিভক্ত ফুটবল বিশ্ব

Printed Edition
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ক্রীড়া ডেস্ক

ইংল্যান্ড, ওয়েলস, ক্রোয়েশিয়া এবং আলবেনিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেছে নরওয়ে। যারা সবাই ইনফান্তিনোর পদত্যাগের জন্য সরাসরি আহ্বান না জানিয়েই তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় বড় ইভেন্টের ২০ শতাংশ শেয়ার ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার ব্যর্থ চেষ্টার জেরে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে নরওয়ে। কিন্তু ৫৬ বছর বয়সী ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনা।

নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) সভাপতি লিস ক্লাভেনেজ বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোর আর ফেরার কোনো পথ নেই। আমরা ফিফা সভাপতিকে এখনই পদত্যাগ করতে বলতে চাই।’

এ দিকে গতকাল মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন তাদের আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফের সাথে মতবিরোধ করে ইনফান্তিনোর সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। মেক্সিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএমএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে ফুটবলের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে সমর্থন করে।’

২০২৬ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর ‘ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার’ প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি ফিফা সভাপতি হিসেবে তার এক দশকের মেয়াদকে ‘একটি স্পষ্ট, স্থিতিশীল এবং স্বচ্ছ শাসন মডেলের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইনফান্তিনোর প্রতি সর্বসনম্মত সমর্থন আছে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ)। তবে এর বিরোধিতায় রয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং কনকাকাফ। ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা বাতিল হওয়া সত্ত্বেও উয়েফা তাদের শর্ত পূরণ হয়নি বলায় ইউরোপীয় দলগুলো এখনো বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে।

ইনফান্তিনোর প্রস্তাবকে ‘এমন নেতৃত্বের লক্ষণ যা ফুটবলকে আর অগ্রাধিকার দেয় না’ বলে বর্ণনা করেছে কনকাকাফ। তারা বলেছে, ‘দুর্বল শাসন ও নেতৃত্বের এই সাম্প্রতিক একতরফা এবং জঘন্য কাজটি ভুল পদক্ষেপ ও একই ধরনের আচরণের ধারাবাহিকতারই অংশ’। তবে উয়েফার মতো তারা ফিফা সভাপতির ওপর আস্থা হারিয়েছে, এমন কথা সরাসরি বলেনি।

ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ওয়েলস, আলবেনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়াসহ অন্যান্য স্বতন্ত্র ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

ইনফান্তিনোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করার আগে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) এই পরিকল্পনার বিরোধিতায় উয়েফা এবং কনকাকাফের সাথে ‘একাত্মতা’ প্রকাশ করেছিল।

ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর মেয়াদ শেষ আগামী বছর মার্চে। সাধারণত ইনফান্তিনো মার্চ মাসে পুনর্নির্বাচনে দাঁড়াতে পারতেন না। কারণ ফিফার বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো তিনটি চার বছরের মেয়াদ। সেখানে ইনফান্তিনো চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার আশা করছেন। তবে ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর তার প্রথম মেয়াদ মাত্র তিন বছর স্থায়ী হয়েছিল। তিনি সফলভাবে যুক্তি দেখান, এই মেয়াদটি গণনা করা উচিত নয়, যা তাকে আবারো নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়।

ইনফান্তিনোর সরাসরি বিরোধিতার করেছে নরওয়ে। তাদের সাথে আছে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়াসহ উয়েফার ৫৫ সদস্য। যদিও কয়েকজন তার বিরুদ্ধে জোটের ভোট ভেঙে দিতে পারে। বিরোধিতার করেছে এশিয়া ও কনকাকাফও। যদিও এশীয় কনফেডারেশন এফএফই-এর ৪৬ সদস্য সমালোচনায় উয়েফার সাথে যোগ দিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাতিল হওয়ার পর তারা কোনো বিবৃতি দেয়নি। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র জর্দানই সরাসরি বলছে যে, তারা তাকে ভোট দেবে না। কনকাকাফের ৩৫ সদস্যই তীব্র সমলোচনা করেছে ইনফান্তিনোর; কিন্তু মেক্সিকো ইতোমধ্যেই ইনফান্তিনোকে সমর্থন করার জন্য জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। এই অঞ্চলে এতগুলো ছোট দেশ ইনফান্তিনোর অর্থায়ন থেকে লাভবান হওয়ায়, জোটের বাকি অংশ কতটা টিকে থাকবে তা অজানা।

আফ্রিকান কনফেডারেশনের ৫৪ সদস্য ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সর্বসম্মত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ওশেনিয়া ১১ সদস্য। আগামী মাসে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত ওএফসি কোনো বিবৃতি দেবে না। তবে এই বছরের শুরুতে সভাপতি ল্যামবার্ট মালটক ইনফান্তিনোকে ‘একজন অসামান্য নেতা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে তার বিনিয়োগের প্রশংসা করেছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার ১০ সদস্য গত পরশু জারি করা একটি বিবৃতির সারমর্ম ছিল ‘আবার এমন করলে আমরা আপনাকে ভোট দেবো না’। কিন্তু ইনফান্তিনো এখনো কনমেবলের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। কারণ ইনফান্তিনোপকে পুনর্নির্বাচনকে প্রকাশ্যে সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে।