বইমেলায় মানসম্পন্ন বইয়ের চাহিদা থাকলেও মানহীন বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে। পাঠকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি মাসকে লক্ষ্য করে প্রতি বছর পুরনো লেখকদের পাশাপাশি নবীনরা বই নিয়ে এলেও তাতে বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তবে মানসম্পন্ন বই বাড়ছে না। ফলে মেলায় ব্যাপক পাঠক সমাগম হলেও আশানুরোপ বিক্রি হয় না। কারণ প্রকাশিত বইয়ের সম্পাদনা ও মান যাচাইয়ের অভাবে ভুলের ছড়াছড়ি এবং তথ্যের অসঙ্গতি পাঠকদের হতাশ করছে। বিশেষ করে শিশুচত্বরসহ বিভিন্ন স্টলে মানহীন বইয়ের উপস্থিতি বইমেলার সাহিত্যিক মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
পাঠকরা বলছেন, নতুন বইয়ে সবচেয়ে বেশি সম্পাদনার অভাববোধ হচ্ছে। বই হাতে নিয়ে পৃষ্ঠা উল্টালেই বুঝতে বাকি থাকে না যে নতুন লেখকদের বইগুলো যথাযথ সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত হচ্ছে। মানহীন বইয়ের এ ব্যাপারে যেটি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয় তা হচ্ছে, তাড়াহুড়ার দরুন প্রুফ রিডিং সুসম্পন্ন বাকি রেখেই বই ছাপিয়ে ফেলা। ফলে মাত্রাতিরিক্ত বানান ভুল তথ্যগত ভুলের ছড়াছড়ি প্রায়ই লক্ষণীয়। যার ফলে ভুল ও তথ্য ও ত্রুটি থাকছে।
শিশুদের জন্য প্রকাশিত বইয়ের অবস্থা আরো ভয়াবহ। বিশেষ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গৌরবময় বাঙালি কৃষ্টি কালচার সহজ ভাষায় শিশুদের কাছে তুলে ধরতে গিয়ে এ জাতীয় বইয়ে অতিরিক্ত ভুল তথ্যের বিন্যাস ঘটেছে। যাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মান যাচাই না করেই বই প্রকাশ বিক্রেতারা লাভবান হলেও পাঠক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বইমেলায় আয়োজক কমিটি ২২ সালে বইয়ের মান নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে মূল প্রতিবেদনে মানসম্মত বইয়ের অভাবের একটি বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাসব্যাপী এ মেলায় ৫২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়, যেটি ২০২১ সালের বইমেলায় মাত্র ৩ কোটি টাকা ছিল। এতে সংখ্যার বিচারে ১৭ গুণ বেশি বই বিক্রি হলেও প্রকাশিত তিন হাজার ৪১৬টি বইয়ের মধ্যে মানসম্মত বই নির্বাচিত হয়েছিল মাত্র ৯০৯টি।
এ বিষয়ে একাধিক প্রকাশন বলছেন, সময় নিয়ে কেউ যদি পান্ডুলিপি দেন সে ক্ষেত্রে তা যাচাই-বাচাই করে ভালো একটা প্রকাশনা পাঠকের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব। কিন্তু বেশির ভাগ লেখক বিশেষ করে নবীন লেখকরা স্বল্পসময়ে বই প্রকাশ করতে চান। এ ক্ষেত্রে তা যাচাই-বাচাই সম্ভব হয় না। ফলে তা মানহীন বই জেনেও পাঠকের হাতে তুলে দিতে হয়।
এ বিষয়ে বাংলা একাডেমি বলছে তাদের কমিটি থাকলেও সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে বিপুলসংখ্যক বইয়ের মান যাচাই করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। যার কারণে মানহীন বইয়ের লাগাম টেনে ধরাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৪০টি। বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সার্ধশত জন্মবর্ষ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন পারভেজ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সফিকুন্নবী সামাদী।
হামীম কামরুল হক বলেন, বাংলা সাহিত্যের এক কীর্তিস্তম্ভের নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তার উপন্যাসগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নারীজীবনের মুক্তি ও বৃহত্তর সমাজের কল্যাণ সাধন। পাঠকের চাহিদা পূরণ করে তিনি একের পর এক উপন্যাস লিখে গেছেন।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও এজাজ ইউসুফী। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন শাহনাজ পারভীন লিপি, শামীমা চৌধুরী, রোকসানা আক্তার এবং ঝর্ণা আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং চলবে হবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীন আহমদ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেবেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মেলায় প্রথমা প্রকাশন নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের সংবিধান : ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও ভবিষ্যৎ। লেখক আলী রীয়াজ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী ১৯৯৬-২০১০। লেখক মতিউর রহমান। অন্যপ্রকাশ নিয়ে এসেছে নজরুলের বিদ্রোহী : শতবর্ষের তূর্যনিনাদ। লেখক এম আবদুল আলীম। ফাউন্টেন পাবলিকেশন্স নিয়ে এসেছে কেন আমি ইহুদি নই। লেখক ডা: আবু বকর সিদ্দীক (অনুবাদক) শ্লোমো স্যান্ড ইয়াসিন আরাফাত।



