দেবীগঞ্জে রাষ্ট্রীয় শোকে অধিকাংশ দফতরে ওঠেনি জাতীয় পতাকা

Printed Edition

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক দেবীগঞ্জ উপজেলায় চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে শনিবার সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও দেবীগঞ্জের অধিকাংশ সরকারি দফতরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনই করা হয়নি। প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে সরকারি নির্দেশনার এমন ব্যত্যয়কে বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন দেবীগঞ্জের সাধারণ মানুষ।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সরেজমিন দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর পতাকাহীন রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়, নির্বাচন কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সরকার শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। প্রজ্ঞাপনে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়; কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির পরও দেবীগঞ্জের অধিকাংশ সরকারি দফতরে নির্দেশনা মানা হয়নি।

দেবীগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ওয়াসিস আলম বলেন, শহীদ হাদি ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত। সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করলেও দেবীগঞ্জের অধিকাংশ দফতরে পতাকা উত্তোলন না করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্ল¬াবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব মুন বলেন, বিগত সময়েও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে পতাকা উত্তোলনে অবহেলা লক্ষ করা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, গোটা উপজেলায় একটি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আমার দফতরের ভবনে কোনোদিন আলাদা করে পতাকা তোলা হয়নি। ইউএনও মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।