নয়া দিগন্ত ডেস্ক
পশ্চিম দারফুরের গভর্নর খামিস আবদুল্লাহ আবকারকে হত্যা এবং আল জেনিনায় সংঘটিত অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে সুদানের একটি আদালত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের বা আরএসএফ কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগালো হেমেদতি এবং অন্য ১৫ জন আসামিকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মিডল ইস্ট মনিটর। পোর্ট সুদানের সন্ত্রাসবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধবিষয়ক আদালতের দেয়া এই রায় ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুদানি সশস্ত্র বাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হেমেদতির বিরুদ্ধে প্রথম বিচার বিভাগীয় রায়।আদালত হেমেদতি তার ডেপুটি ও ভাই আবদুর রহিম হামদান দাগালো এবং অন্য আসামিদের ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। আদালতের তথ্য অনুযায়ী আসামিদের যুদ্ধাপরাধ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সশস্ত্র সঙ্ঘাতের সময় ব্যক্তি ও সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার সাথে সম্পর্কিত ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে হেমেদতিকে অপরাধের পরিকল্পনা ও পরিচালনার জন্য দায়ী করা হয় আর আবদুর রহিম দাগালোকে পরিকল্পনা ও অপরাধে অংশ নেয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অন্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন- হেমেদতির আরেক ভাই আল কৌনি হামদান আল কৌনি পশ্চিম দারফুরে আরএসএফের কমান্ডার আবদুর রহমান জুমা এবং উপজাতীয় নেতা আল তিজানি আল তাহের কারশুম। গভর্নর খামিস আবদুল্লাহ আবকার ২০২৩ সালের ১৪ জুন নিহত হন। সে সময় সুদান সরকার আরএসএফের বিরুদ্ধে তাকে হত্যা এবং তার লাশ অবমাননা করার অভিযোগ তুলেছিল। আরএসএফ অবশ্য এই হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করেছে।
সুদান সরকার জাতিসঙ্ঘ এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আরএসএফের বিরুদ্ধে আল জেনিনায় হত্যাকাণ্ড জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং মাসালিট সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলাসহ ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে। আরএসএফ অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা বা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সুদানি সশস্ত্র বাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যকার এই সঙ্ঘাত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবিক সঙ্ঘটে পরিণত হয়েছে যেখানে ২০২৩ সালের এপ্রিলে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং আনুমানিক এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আরএসএফ বর্তমানে দারফুরের বেশির ভাগ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সুদানি সশস্ত্র বাহিনী খার্তুমসহ দেশের বাকি অংশের বেশির ভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
মৃত্যুর মুখে ৮ লাখের বেশি শিশু : জাতিসঙ্ঘ
মিডল ইস্ট মনিটর আরো জানায়, সুদানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশটির লাখ লাখ শিশু। জাতিসঙ্ঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী কার্যালয় (ওচা) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় আট লাখ ২৫ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার হতে পারে।
সঠিক সময়ে জরুরি চিকিৎসা ও খাবার না পেলে এই বিপুলসংখ্যক শিশুর প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।



