পারমাণবিক আক্রমণের কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

Printed Edition

আনাদোলু এজেন্সি ও রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালায়, তবে তেহরানও সমান শক্তিতে পাল্টা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের এক শীর্ষ আইনপ্রণেতা। গতকাল ১৯ আগস্ট ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য ফাদা হোসেন মালেকি স্থানীয় গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই বার্তা দেন।

তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেকোনো চরম পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না, তবে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের আশঙ্কায় তিনি তা করতে সাহস পাবেন না। মালেকি স্পষ্ট করেন, যে ধরনের অস্ত্র দিয়েই আক্রমণ করা হোক, ঠিক একই মাত্রায় তার উত্তর দেবে ইরান। একই সাথে সামরিক জবাব দেয়ার জন্য তেহরানের হাতে বহু গোপন ও শক্তিশালী উপায় রয়েছে এবং তারা আক্রমণাত্মক প্রতিরোধের নীতি গ্রহণ করেছে। ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনা স্থগিত রয়েছে উল্লেখ করে মালেকি বলেন, প্রতিশ্রুতি না মানলে ইরান নতুন কোনো আলোচনায় বসবে না। এতে হরমুজ প্রণালীসহ আঞ্চলিক সঙ্কট অমীমাংসিতই থাকবে। ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনাকে ভিন্ন প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সেখানে আমেরিকার উপস্থিতি ইরান নাকচ করেছে বলে তিনি জানান। গত ফেব্রেুয়ারিতে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের পর থেকে দুই পক্ষের চরম উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

অন্য এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি স্পষ্ট করেছেন, সাময়িক কোনো যুদ্ধবিরতিতে ইরান আর সম্মত হবে না; স্থায়ী অবসানই তেহরানের মূল লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তী সমঝোতার ৬০ দিনের মেয়াদে কোনো সমাধান আসেনি। আরাকচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, কেবল সাময়িক বিরতি নয়, ইরান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি চায়। তিনি অঞ্চলের নিরাপত্তা যৌথ কাঠামোর অধীনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। এ সময় মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। শিক্ষাবিদদের এক অনুষ্ঠানে আরাকচি দাবি করেন, রণক্ষেত্র ও কূটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই বিজয়ী হয়েছে ইরান। শুরুতে যারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়েছিল, তারাই পরবর্তীতে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে।