দল নিয়ে গর্বিত নরওয়ে কোচ

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে নরওয়ের বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হলেও দলকে নিয়ে গর্বের যেন শেষ নেই স্টালে সোলবাকেনের। আর্লিং হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের সৌজন্যে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি নিজেদের পারফরম্যান্সে শুধু দেশ নয়, মুগ্ধ করেছে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদেরও। বিদায়ের ক্ষণে আবেগাপ্লুত নরওয়ে কোচ জানিয়েছেন, সমর্থকদের প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে পেরে তিনি ভীষণ খুশি ও তৃপ্ত।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় নরওয়ে। পুরো ম্যাচে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে নরওয়েজিয়ানরা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে থেমেছে বিশ্বকাপে তাদের রূপকথার যাত্রা। ম্যাচে প্রথমার্ধে আন্দ্রেয়াস শেল্ডেরাপের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। পরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ও অতিরিক্ত সময়ে একটি করে গোল করে তাদের হৃদয় ভেঙে দেন জুড বেলিংহাম।

আগে কখনোই নকআউট পর্বে কোনো জয় না পাওয়া নরওয়ে এবার দারুণ সব পারফরম্যান্সে চমকে দেয় সবাইকে। ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে হারায় আইভরি কোস্টকে। ইউরোপের দলটি শেষ ষোলো থেকে বিদায় করে দেয় রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর সুরবাকেন দলের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

সোলবাকেন বলেন, ‘আমরা উঁচুমানের ফুটবল খেলছিলাম, ব্যবধানটা আমাদের পক্ষে ছিল না, তবে জীবন এমনই এবং এখন আমাদের একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে হবে। এটাই বাস্তবতা। এটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল, এর চেয়ে বড় মঞ্চ আর নেই। ম্যাচের শুরুতে, বিশেষ করে প্রথম ২০ মিনিটে আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু ছেলেদের আমি সত্যিই সাধুবাদ জানাই।’

নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযানে গোটা দেশে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। দেশের লাল জার্সির মজুদ শেষ হয়ে যায়, আর হাজারো সমর্থক স্টেডিয়াম, রাস্তা ও জনসমাগমস্থলে ভিড় জমিয়ে হলান্ডদের ম্যাচ উপভোগ করেন। শেষ পর্যন্ত সবার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সোলবাকেন। দলের এই ঐতিহাসিক অভিযানের সঙ্গী হতে পেরে গর্বের অন্ত নেই তার।

অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর তিনি বলেন, ‘ছেলেদের জন্য আমার খারাপ লাগছে। এটাই শীর্ষ পর্যায়ের খেলাধুলার সেরা বা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ। ব্রাজিলের বিপক্ষে আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, আজ (গতকাল) আমরা ততটা ভাগ্যবান ছিলাম না। ব্যবধান আমাদের পক্ষে ছিল না; কিন্তু এটাই জীবন।’