লালপুরে শ্রমিক সঙ্কটে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে সোনালি আঁশ

Printed Edition
শ্রমিক সঙ্কটের কারণে জাগ দেয়া পাট নষ্ট হওয়ার উপক্রম : নয়া দিগন্ত
শ্রমিক সঙ্কটের কারণে জাগ দেয়া পাট নষ্ট হওয়ার উপক্রম : নয়া দিগন্ত

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা

নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। সময়মতো পাট কাটতে না পেরে লোকসানের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। মাঠে পর্যাপ্ত পানি থাকায় জাগ (পাট পচান) দেয়ার পরিবেশ থাকলেও শ্রমিকের অভাবে কাটাই বিলম্বিত হচ্ছে, এতে পাটের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৯৫ হেক্টর বেশি। উৎপাদন বাড়াতে ১ হাজার কৃষককে উন্নত বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ ফলন মিলছে। বাজারে ভালো মানের পাট প্রতি মণ ৩,৪০০ থেকে ৪,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিঘাপ্রতি আয় ২৭,২০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সময়মতো কাটতে পারলে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হতো। তবে কাটাইয়ে দেরি হলে মান নষ্ট হয়ে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা লোকসানের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

কৃষক আব্দুল্লাহ, সুমন ও ফিরোজ জানান, অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে পেশা পরিবর্তন করায় এলাকায় শ্রমিকের চরম ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দেরি হলে আঁশের রঙ ও মান খারাপ হয়ে ভালো দাম পাওয়া যাবে না। পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, বাজারে পাটের মান ঠিক রাখা খুব জরুরি, নইলে কাক্সিক্ষত দাম মিলবে না। লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার জানান, শ্রমিক সঙ্কট কাটাতে কৃষকদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।