টিআরটি ওয়ার্ল্ড
তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরবের সম্পাদিত সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এক দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তির ফলে ত্রিপক্ষীয় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার সামরিক সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শুক্রবার মক্কায় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পরবর্তী সময়ে গত মঙ্গলবার জেদ্দায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাদশাহ সালমান এই সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা সৌদি প্রেস এজেন্সিতে (এসপিএ) প্রকাশিত হয়েছে। বাদশাহ সালমান জানান, মক্কার এই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক তিন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সংযোগ ও সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সাথে তিন দেশের অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা ও তা এগিয়ে নেয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তানুযায়ী, তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। মক্কার এই নতুন চুক্তিটি মূলত বছরখানেক আগে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিবর্ধিত রূপ। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সূত্রে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে এই জোটে আরো কয়েকটি রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে একটি বৃহৎ সম্মিলিত নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ বলয়ে রূপান্তরিত হতে পারে। এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো, শরিক তিন দেশের যেকোনো একটি ভূখণ্ড আক্রমণের শিকার হলে তা পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই কৌশলগত নীতিটি ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা রূপরেখার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যদিও নবগঠিত এই জোটের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো ও কার্যপ্রণালী এখনো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।


