নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার ও আশুলিয়া সংবাদদাতা
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। দেশের ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের শুরুতে এবারের মহান স্বাধীনতা দিবস ছিল মহাআনন্দের। ভোরের আলো উঁকি দেয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সাভারে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি। বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সবার মাঝে ছিল যেন এক বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভোর ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর, সশস্ত্রবাহিনীর একটি চৌকস দল প্রদান করে গার্ড অব অনার। তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
পরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও স্পিকারের পক্ষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় স্মৃতিসৌধ।
বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে যায় শহীদ বেদি।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তাদের সরকার সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করবে। অপর দিকে প্রথমবারের মতো জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করবে তার দল। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জিএম গোলাম কাউসার তালুকদারের নেতৃত্বে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ভিসি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ভিসি, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ঢাকা, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিট, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা জেলা, বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, গণবিশ^বিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ভিসি, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, ঢাকা সিটি কলেজ, জাসদ, জিয়া পরিষদ, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ইসলামী আরবি বিশ^বিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাব, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ভিসি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি প্রমুখ।
দিবসটি ঘিরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও উত্তোলন করা হয় বড় আকারের জাতীয় পতাকা। একই সাথে ঢাকা সিটি করপোরেশন ভবন ও বহুতল ভবনেও পতাকা ওড়ানো হয়। বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও খেতাবপ্রাপ্ত জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা দেন রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ। এসব জাহাজ চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা, পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা এবং বরিশালে বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে অবস্থান করে। এ ছাড়া চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জে কোস্টগার্ডের জাহাজও উন্মুক্ত রাখা হয়।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতার কেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে। জাতীয় দৈনিক ও বেসরকারী টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমগুলোও প্রচার ও প্রকাশ করেছে ক্রোড়পত্র ও নানা অনুষ্ঠান। এ ছাড়া ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সিনেমা হলে প্রদর্শন করা হয় বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। সারাদিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল জাদুঘরগুলো। শিশুদের জন্য খোলা ছিল সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্র।
দিবসটিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রূহের মাগফিরাত, জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও ছিল প্রার্থনার আয়োজন। দেশব্যাপী সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বিভিন্ন কল্যাণ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।
প্রথমবার পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার প্রধানমন্ত্রীর
এই প্রথমবারের মতো পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নিজের সাদা গাড়ি ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই গাড়িতে জাতীয় ও প্রধানমন্ত্রীর পতাকা থাকে না। কিন্তু গতকালই প্রথম তিনি পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার ভোরে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে নির্ধারিত গাড়ি রয়েছে সেই গাড়িতে চড়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছেন। এই গাড়িতে জাতীয় পতাকা ও প্রধানমন্ত্রীর পতাকা ছিল। রাষ্ট্রীয় গাড়ি এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করলেন। একেবারেই সীমিত প্রটোকল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাভারে আসেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছান ৫টা ৫৩ মিনিটে। স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
চট্টগ্রামে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের পর নগরীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান মেয়র। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে দেশের পক্ষে অবদান রাখা সব বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের দায়িত্ব।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেনÑ চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো: আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: ইমাম হোসেন রানাসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা।
বগুড়ায় নানা কর্মসূচি
বগুড়া অফিস জানায়, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ মুক্তির ফুলবাড়ীতে বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে বগুড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এবং জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদ, পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বগুড়া জেলা ইউনিট কমান্ড, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বগুড়া প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে সকালে শিশু-কিশোরদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শহীদ টিটু মিলনায়তনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার নেতৃত্বে জেলা বিএনপি, অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আলোচনা সভা শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহর সেক্রেটারি আবদুল মালেকসহ নেতারা বক্তব্য দেন।
গাজীপুরে উদযাপন
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
দুপুরে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার আবেগঘন বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরেন এবং জাতি গঠনে শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) দিবসটি পালন করা হয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিশেষ মুনাজাত ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রেও স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পতাকা উত্তোলন করা হয়।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার প্রদর্শন এবং বিশেষ মুনাজাতের আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।
নোয়াখালীতে পালিত
নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীতে উৎসব মুখর পরিবেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। সকাল ৯টায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নোয়াখালী চার আসনের সংসদ সদস্য মো: শাহাজাহান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ বি এম জাকারিয়ার নেতৃত্বে মাইজদী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তার আগে জেলা প্রশাসক সফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার টি এম মোশারফ হোসেন পুষ্পস্তবক দেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
খুলনায় স্বাধীনতা দিবস পালিত
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় গতকাল প্রত্যুষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানগুলোয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়।
গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি রেজাউল করিম, বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, কেডিএ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, খুলনা প্রেস ক্লাব, এমইউজে খুলনা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতারা।
সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ। পরে একই স্থানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।



