ইয়াহু
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে চাঁদের স্বত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাসহ ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ শীর্ষক একটি পোস্ট দেন তিনি। বিষয়টি আলোচনা তৈরি করলেও তা চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দাফতরিক বা আইনি সার্বভৌমত্ব দাবি করে না, কেননা এর সাথে কোনো নির্বাহী নির্দেশ জারি করা হয়নি।
বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুসারে চাঁদের একক মালিকানা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। জাতিসঙ্ঘের ‘আউটার স্পেস ট্রাইটি’ বা বহিরাঙ্গন মহাকাশ চুক্তির ২ নম্বর ধারায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো রাষ্ট্র সার্বভৌমত্বের দাবি, ব্যবহার বা দখলের মাধ্যমে চাঁদসহ অন্য কোনো মহাজাগতিক পিণ্ডকে জাতীয় সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এ সনদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাক্ষরকারী দেশ। জাতিসঙ্ঘের মহাকাশবিষয়ক দফতর (ইউএনওওএসএ) স্পষ্ট করেছে, সামাজিক মাধ্যমের কোনো বক্তব্য আইনগত বাধ্যবাধকতা পরিবর্তন করে না। এ ছাড়া চাঁদে যান পাঠানো অন্য চার দেশ-চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, ফলে একতরফা দাবির সুযোগ নেই। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালায় মহাকাশে কর্তৃত্ব অর্জনের অগ্রাধিকার দেখা গেছে। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী সামরিক ও বৈজ্ঞানিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের ঘোষণা দেয় হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্প তার আগের মেয়াদেও এক আদেশে মহাকাশকে ‘গ্লোবাল কমন্স’ বা সবার উন্মুক্ত এলাকা হিসেবে গণ্য না করার অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন।



